পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনায় দুই পক্ষের প্রস্তাবগুলোর কারিগরি দিকগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর আগে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা সরকারি কর্মকর্তাদের মতে ইতিবাচক ছিল। হোয়াইট হাউস প্রেস পুলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি বিশেষজ্ঞরা ইসলামাবাদে উপস্থিত রয়েছেন এবং ওয়াশিংটন থেকেও অতিরিক্ত সহায়তা পাচ্ছেন। অন্যদিকে ইরানি প্রতিনিধি দলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. নাসের হেম্মতি ও অন্যান্য কারিগরি বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। চার ঘণ্টা পরেও এই আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনাগুলো দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করছে, যেখানে উভয় পক্ষই কারিগরি পর্যালোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য সমাধানের পথ খুঁজছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। আলোচনায় তারা আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উভয় নেতা সংযম ও যুদ্ধবিরতি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন। ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, তারা প্রথমে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকে। তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন এবং একটি শক্তিশালী ও স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। এই ফোনালাপ ফ্রান্স ও তুরস্কের মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কেএম বাবর জানিয়েছেন, চলতি এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ এবং গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, পহেলা বৈশাখ থেকে ঢাকা-বেনাপোলগামী ট্রেন মুকসুদপুর স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে। শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যানদের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। ডা. বাবর বলেন, ট্রেন চালু হলে গোপালগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে এবং এতে স্বল্প খরচে ও কম সময়ে ঢাকা, বেনাপোল ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত সহজ হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এ উদ্যোগ জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এতদিনে ঢাকা রুটে ট্রেন চালু হয়নি এবং কেন একটি ইপিজেড স্থাপন করা হয়নি। তিনি গোপালগঞ্জ পৌরসভার পানির সংকটের বিষয়েও কথা বলেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে ও মাদক, চুরি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলী আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনায় একটি নির্দিষ্ট মাত্রার নমনীয়তা তৈরি হয়েছে এবং এর পেছনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাই মূল ভূমিকা রেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে তা প্রমাণ করবে যে উভয় পক্ষই আর সংঘাত বাড়াতে চায় না। তার মতে, প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান দেখানো আসলে আলোচনার কৌশলের অংশ, কিন্তু আলোচনার টেবিলে বাস্তবতা অনেক ভিন্ন। দুই পক্ষই নিজ নিজ দেশের রাজনৈতিক চাপ সম্পর্কে সচেতন। তিনি বলেন, দুই দেশের প্রতিনিধিদল আসার পর থেকেই পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং আলাদাভাবে উভয় পক্ষকে আরও নমনীয় হতে উৎসাহিত করেছে। মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান নয়, বিশ্বও এখন আর নতুন কোনো সংঘাত বা উত্তেজনা সহ্য করার অবস্থায় নেই, কারণ এতে বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও জ্বালানি অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, পাকিস্তানে থাকা ইরানি প্রতিনিধি দল দেশের স্বার্থ রক্ষায় সাহসিকতার সঙ্গে আলোচনা করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আলোচনার ফলাফল যাই হোক না কেন, জনগণের সেবা এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হবে না এবং সরকার জনগণের পাশে থাকবে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই সংলাপ চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, তেহরান আলোচনায় দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার এই মন্তব্য ইরানের আলোচনাকারী দলের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার খবর সংগ্রহ করতে শতাধিক সাংবাদিক জড়ো হয়েছেন ইসলামাবাদের প্রধান কনভেনশন সেন্টারে। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ অস্থায়ীভাবে স্থানটিকে মিডিয়া হাবে রূপান্তর করেছে, যা মূল আলোচনার ভেন্যু থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার মধ্যেও সাংবাদিকদের জন্য ছিল উচ্চগতির ইন্টারনেট, গুরমে কফি এবং ‘শান্তির জন্য প্রস্তুত’ স্লোগানে সাজানো কফি স্টল। মিডিয়া সেন্টারের ভেতরে বিরিয়ানি, কাবাব ও গোলাপ জামুনসহ নানা আয়োজন ছিল, আর বাইরে ছোট মঞ্চে শিল্পীরা লোকসংগীত পরিবেশন করছিলেন। তবে এসব আয়োজনের মাঝেও অনেক সাংবাদিক বিরক্তি প্রকাশ করেছেন, কারণ তাদের করার মতো তেমন কিছু ছিল না। উচ্চপর্যায়ের আলোচনার বিপরীতে সাংবাদিকদের এই অপেক্ষা ও একঘেয়েমি ঘটনাটির ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এক অভিযানে ১,৪০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার দুর্গম বৌদ্ধমনিপাড়ার কাঁঠালতলি এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। গুলির চালানের বিষয়ে গোপন তথ্য পাওয়ার পর বিজিবি অভিযান চালায়। শনিবার সকালে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিজিবি বিষয়টি জানায়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বিজিবির তথ্যমতে, পানছড়ি ব্যাটালিয়নের (৩ বিজিবি) অধীন বৌদ্ধমনিপাড়া সীমান্ত ফাঁড়ির নায়েব সুবেদার মো. শাহ আলমের নেতৃত্বে টহল দল দুটি মোটরসাইকেলে চার সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে থামার সংকেত দেয়। তারা পালিয়ে গেলে ফেলে যাওয়া থলে থেকে গুলি উদ্ধার করা হয়। ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা বিজিবি সদস্যদের ঘেরাওয়ের চেষ্টা করলে সদর দপ্তর থেকে অতিরিক্ত টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পানছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রবিউল ইসলাম জানান, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিজিবির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নজরদারির মুখে পড়েছে। এই তথ্য পাকিস্তানে অবস্থানরত ইরানি আলোচক দলকেও জানানো হয়। একই সময়ে অ্যাক্সিওসের সাংবাদিক বারাক রাভিদ মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ইতিমধ্যে প্রণালি অতিক্রম করেছে, যদিও ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থা এক অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য অস্বীকার করেছে। মেরিন ট্রাফিক ও ভেসেল ফাইন্ডারের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস মাইকেল মারফি’ দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে হরমুজ প্রণালির পশ্চিম অংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং এর গন্তব্য হিসেবে ‘সিঙ্গাপুর’ দেখানো হয়েছে। এই অগ্রযাত্রা এমন সময় ঘটছে যখন ইরান ঘোষণা করেছে যে তারা মার্কিন ও ইসরাইলি জাহাজকে প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে না। ঘটনাটি হরমুজ প্রণালিতে ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে উভয় পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য স্পষ্ট।
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ভবিষ্যতের নির্বাচন যেন আর কোনো সহিংসতার কারণ না হয়। শনিবার বিকেলে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত শেরপুর জামায়াতের সেক্রেটারিকে দেখতে গিয়ে এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাজনীতি হবে আদর্শের লড়াই, অস্ত্রের নয়, এবং যারা মানুষ হত্যা করে সংসদে যায় তারা জনগণের প্রতিনিধিত্বের যোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত শেরপুর ও বগুড়ার উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি ও সহিংসতা হয়েছে, বিশেষ করে শেরপুর-৩ আসনে পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল। তিনি আরও জানান, এবারও এক বয়স্ক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমান হাসপাতালের অতিরিক্ত ভিড় ও স্বাস্থ্যসেবার দুরবস্থা তুলে ধরে বলেন, এটি নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চনার প্রমাণ। তিনি সংসদে এসব বিষয় উত্থাপনের অঙ্গীকার করেন এবং বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে জামায়াত শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় আন্দোলন চালিয়ে যাবে, সহিংস পথ নয়।
আলজাজিরার খবরে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট (নারী ও পরিবার বিষয়ক) মাসুমেহ এবতেকারের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের আবাসিক অনুমতি বাতিল করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রুবিও জানান, এবতেকারের ছেলে ঈসা হাশেমি, তার স্ত্রী ও সন্তানদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। রুবিও বলেন, এই ব্যক্তিদের কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের বিশেষ সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল না। তিনি আরও জানান, তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর হেফাজতে আছেন এবং তাদের বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে যখন ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা চলছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠক শেষে নৈশভোজের বিরতি দেওয়া হয়েছে এবং পরে আলোচনা পুনরায় শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনাটি ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, দুই দেশের প্রতিনিধিরা পরোক্ষভাবে আলোচনায় অংশ নেবেন। তবে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সরাসরি আলোচনা শুরু হওয়াকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের সূত্র অনুযায়ী, দেশটির জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া নিয়ে কিছু পরিবর্তন হয়েছে। আল–জাজিরা জানিয়েছে, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং তথ্য যাচাই করা কঠিন। আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।
অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (এএফইডি) জানিয়েছে, বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ উপনির্বাচনে ১১ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে প্রক্সি ভোটের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। শনিবার ঢাকার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি এই তথ্য জানায়। এএফইডি জানায়, অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হলেও কিছু অনিয়ম ঘটে, যার মধ্যে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার আগেই ব্যালট গণনা শুরু হয়। সংস্থার মুখপাত্র হারুন-অর-রশিদ বলেন, প্রায় ১২ শতাংশ কেন্দ্রে ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং একটি কেন্দ্রে শারীরিক ভয় প্রদর্শনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। প্রায় ৪৭ শতাংশ কেন্দ্রে প্রচারের সামগ্রী দেখা গেছে, যা আচরণবিধি লঙ্ঘন। ১২টি কেন্দ্রে অনুমোদনহীন ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা এবং ১৫টি ক্ষেত্রে ভোটারদের ভোট প্রদানে নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় অর্ধেক কেন্দ্রে ভোটারদের দলবদ্ধভাবে একই যানবাহনে আনার ঘটনাও দেখা গেছে। এএফইডি জানায়, ভোটার উপস্থিতি ৩১ থেকে ৬৪ শতাংশের মধ্যে ছিল এবং অনেক কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ভোটার অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সংস্থাটি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ জোরদার, আচরণবিধি কঠোরভাবে মানা এবং ডাকযোগে ভোটের পরিধি বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।
দেশে হামের উদ্বেগজনক প্রাদুর্ভাবের মধ্যে বিশেষ হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি আগামীকাল রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ থেকে চার সিটি করপোরেশনে শুরু হচ্ছে। এই পর্যায়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১২ লাখ ১৯ হাজার ৯৫৭ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এই কার্যক্রম ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে দেশে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এমআর টিকা কার্যক্রম চালু হয়, যেখানে সংক্রমণ বেশি সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশু এই টিকার আওতায় আসবে, পূর্বে টিকা নেওয়া থাকলেও পুনরায় টিকা নেওয়া যাবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টিকাদান চলবে। আগে ৩ মে থেকে সারাদেশে কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও তা এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সংস্কার বিষয়ে বিএনপি সরকারের অবস্থানে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলের যুগ্মমহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার তখন বিভিন্ন অধ্যাদেশ জারি করে সংস্কারগুলোকে আইনি বাধ্যবাধকতায় নিয়ে এসেছিল। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল এসব অধ্যাদেশ অনুমোদন ও নতুন সংস্কার আইন প্রণয়ন করা হবে। কিন্তু প্রথম অধিবেশনে বিএনপির আচরণে জাতি আশাহত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও পুলিশ কমিশন গঠনের অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাতে দিয়েছে এবং বিচার বিভাগ, মানবাধিকার কমিশন ও সংসদ সচিবালয় সংক্রান্ত সাতটি অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, এসব অধ্যাদেশ স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে দিতে পারত। ইসলামী আন্দোলন এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপিকে পরবর্তী অধিবেশনে শক্তিশালী সংস্কার বিল উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে, অন্যথায় জনগণ নিজেরাই দাবি আদায় করবে বলে সতর্ক করেছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননে চলমান আগ্রাসনের কারণে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। ইসরাইলি গণমাধ্যম হারেৎজ-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বৈরুতের ওপর হামলা বন্ধ করতে এবং লেবাননের সরকারের সঙ্গে সংলাপে যেতে আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, লেবানন সরকার ইরানের মধ্যস্থতা এড়াতে সরাসরি একজন ইসরাইলি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়েছে, যদিও দেশটি তখনও আক্রমণের মুখে ছিল। প্রাথমিক বৈঠকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ উভয় পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে। বিশেষ করে চলমান হামলার মধ্যেই আলোচনা চালানো নিয়ে বড় মতপার্থক্য রয়েছে। এদিকে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নেতানিয়াহুর ওপর চাপ বাড়ছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তার জনপ্রিয়তা কমছে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট লিকুদ পার্টির চেয়ে বেশি আসন পেতে পারে বলে আলজাজিরা জানিয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।