বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষক দলীয় সভা-সমাবেশ ও নির্বাচনি প্রচারে যুক্ত হচ্ছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাবের কারণে এসব শিক্ষকের ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষা তদারকি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কুড়িগ্রাম, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলায় শিক্ষকরা প্রকাশ্যে রাজনীতিতে অংশ নিচ্ছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশাসনবিরোধী মন্তব্য করায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা স্থানীয় প্রভাবশালী শিক্ষক ও সংগঠনের চাপে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছেন না, ফলে পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান, অসহযোগিতার অভিযোগে ৪৩ শিক্ষককে বদলি এবং শতাধিককে শোকজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি জেলায় ফেসবুক মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শুনানি শেষে শাস্তি নির্ধারণ করা হবে।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ইরানের জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরানি বাহিনী ‘ট্রিগারে আঙুল দিয়ে রেখেছে’ এবং সর্বোচ্চ কমান্ডার-ইন-চিফের নির্দেশ পালনে আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুত। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান। পাকপুর বলেন, অতীতের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে ভুল পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ এমন পদক্ষেপ আরও বেদনাদায়ক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। গত বছরের জুন মাসে ইসরাইল তেহরানে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দুর্বল করার লক্ষ্যে হামলা চালায়, পরে যুক্তরাষ্ট্রও এতে যোগ দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প খোলা রেখেছেন বলে হুমকি দিয়ে আসছেন। এই সতর্কবার্তা ইরানের সামরিক প্রস্তুতি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সম্ভাব্য পদক্ষেপের প্রতি তার কঠোর অবস্থানকে ইঙ্গিত করে।
২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রকাশিত এক নিবন্ধে সিনিয়র সাংবাদিক আনিসুর রহমান বলেন, ভারত বাংলাদেশকে প্রকৃত বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে না এবং ঢাকার রাজনীতিতে প্রভাব বজায় রাখতে চায়। তার মতে, ভারত একটি অনুগত সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে আগ্রহী এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে আধিপত্য বিস্তার করছে। তিনি বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের আহ্বান জানান, বাণিজ্য, পানি বণ্টন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ভারতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথ খুঁজে বের করতে। নিবন্ধে বলা হয়, সম্ভাব্য সম্পর্ক পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশকে একাধিক কন্টিনজেন্সি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে এবং দেশীয় থিংক ট্যাংকগুলোকে নীতিনির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। লেখক যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিখ্যাত থিংক ট্যাংকের উদাহরণ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের বিআইআইএসএস ও বিআইডিএস জাতীয় স্বার্থে একইভাবে কাজ করতে পারে। তিনি আইটি ও গার্মেন্টস খাতে আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন। আনিসুর রহমান উপসংহারে বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত, তবে প্রয়োজনে বিকল্প অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে।
জাতিসংঘের ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট ফর ওয়াটার, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হেলথের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবী এখন ‘বৈশ্বিক পানি দেউলিয়াত্বের’ যুগে প্রবেশ করেছে। এতে সতর্ক করা হয়েছে যে, পৃথিবীর সুপেয় পানির ভাণ্ডার যেমন নদী, হ্রদ ও জলাধার দ্রুত হারে ধ্বংস হচ্ছে। ইতোমধ্যে ইরানের তেহরান, আফগানিস্তানের কাবুলসহ আফ্রিকা ও এশিয়ার বহু দেশে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে, যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুপেয় পানির উৎস নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের ৭৫ শতাংশ মানুষ এমন দেশে বাস করে যেখানে পানি অনিরাপদ বা মারাত্মকভাবে অনিরাপদ। প্রায় ২০০ কোটি মানুষ এমন অঞ্চলে বসবাস করছে, যেখানে ভূগর্ভস্থ পানিস্তর এতটাই নিচে নেমে গেছে যে ভূমি দেবে যাচ্ছে। গবেষক অধ্যাপক কাভেহ মাদানি বলেন, অনেক অঞ্চলের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই সংকট-পরবর্তী বিপর্যয় অবস্থায় পৌঁছেছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা কার্যত দেউলিয়া হয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, হিমবাহ গলন ও চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি এই সংকটকে আরও তীব্র করছে। প্রতিবেদনটি সতর্ক করেছে যে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কোটি কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যদিও পুরো পানি ব্যবস্থার পতন কখন ঘটবে তা এখনো অনিশ্চিত।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, তার দল চাঁদা নেবে না এবং কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেবে না। তিনি দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের আদর্শ স্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ জনসভা থেকেই তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বিএনপির কার্ড বিতরণের প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব কার্ড কোনো পরিবারের সমস্যা সমাধান করতে পারবে না। জনগণের ট্যাক্সের বাইরে যে বেসরকারি ট্যাক্স বা চাঁদাবাজি চলছে, তা বন্ধের আহ্বান জানান তিনি। ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ছাড়া দুর্নীতি, বৈষম্য ও সন্ত্রাস দূর করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। অতীতের ভোট ডাকাতি ও ফ্যাসিবাদী শাসনের নিন্দা জানিয়ে তরুণদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এই জনসভা দিয়েই ডা. শফিকুর রহমানের চারদিনের নির্বাচনি কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর তিনি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা সফর করবেন এবং ২৫ জানুয়ারি ঢাকায় ফের গণসংযোগ করবেন।
নাসিরনগরের জুলাই শহীদ হাফেজ ইমরানের বাবা মো. ছোয়াব মিয়া (৫৫) বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। স্থানীয় এক ছাত্রনেতার সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে কুট্টাপাড়া খেলার মাঠের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে সরাইল উপজেলার পুইট্টা ব্রিজ-সংলগ্ন সড়কে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়, এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনার পর সমাবেশে অংশ নিতে আসা জনতা মোটরসাইকেলে পিছু ধাওয়া করে কুন্ডা এলাকায় গিয়ে চালকসহ ট্রাকটি আটক করে। গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক চৌধুরী জানান, তিনি দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন এবং নিহতের পরিবার ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি সরাইল থানা এলাকায় ঘটেছে এবং পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। ২০২৪ সালে আওয়ামী সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় নিহত হাফেজ ইমরানের মৃত্যুর এক বছরের মধ্যেই বাবার এই মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোক নেমে এসেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পর জেলেনস্কি এই ঘোষণা দেন বলে বিবিসি জানিয়েছে। ট্রাম্প জানান, জেলেনস্কির সঙ্গে তার চমৎকার বৈঠক হয়েছে এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার জন্য মস্কো গেছেন। জেলেনস্কি বলেন, পূর্ব ইউক্রেনের ভূমির ভবিষ্যৎ এখনো সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অনুযায়ী ইউক্রেনের শিল্পাঞ্চল ডনবাসকে সামরিকহীন ও মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হতে পারে, যার বিনিময়ে কিয়েভকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। ইউক্রেন প্রস্তাব দিয়েছে, তারা নিয়ন্ত্রিত ডোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় ২৫ শতাংশ এলাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করবে, যদি রাশিয়াও একই পদক্ষেপ নেয়। তবে রাশিয়া পুরো ডনবাস অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেলেনস্কি বলেন, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির পর ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি আরও জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন, তবে চুক্তি কার্যকর করতে হলে তা মার্কিন কংগ্রেস ও ইউক্রেনের পার্লামেন্টে অনুমোদন নিতে হবে।
রংপুরে চারটি মাদক মামলার আসামি ট্রাকচালক মুকুল মিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে মহানগর কোতোয়ালি থানার এসআই মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচজন সাদা পোশাকের কনস্টেবল নগরীর চিকলি ভাটার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে স্বজনদের জানানো হয় যে মুকুল মারা গেছেন। এ ঘটনার পর স্বজন ও এলাকাবাসী রাত পৌনে ২টা পর্যন্ত নগরীর মেডিকেল মোড়ে লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ করে অভিযুক্তদের বিচার দাবি জানায়। স্বজনদের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের সময় মুকুল সুস্থ ছিলেন, কিন্তু হাসপাতালে তার শরীরে বালু চাপা দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়, যা তারা নির্যাতনের প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর মুকুল অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবি উঠেছে।
জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, ভোটারদের ১০ টাকা কেজি চালের মতো নানা কার্ডের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। শুক্রবার সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এসব কার্যক্রম আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে কি না তা দেখা উচিত। তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে জামায়াতের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, তাদের দল কোনো অনৈতিক প্রচারে জড়িত নয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছরে দেশ ক্ষতির মুখে পড়েছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়েছে এবং যুবসমাজ বেকারত্বে ভুগছে। তিনি জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার যেকোনো অসৎ প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি জানান, এখনো কিছু এলাকায় ডাকযোগে ব্যালট পৌঁছায়নি। তিনি নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং তরুণদের সুষ্ঠু ও স্মরণীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ৪ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৬ দিনে ৫৯টি মামলা হয়েছে এবং চার লাখ ৫৪ হাজার ৯০০ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ইসির কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে ৬৭ আসনে অভিযান চালানো হয়, যেখানে বিধি ভঙ্গের ঘটনা বেশি ছিল। বৃহস্পতিবার থেকে দেশজুড়ে মূল প্রচার শুরু হয়েছে, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ইসির হিসাবে, ৮ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ৬৭ নির্বাচনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৯টি মামলা ও কয়েকটি কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি ৮৭৩টি অভিযোগ পর্যালোচনা করে পোস্টার অপসারণ, কারণ দর্শানোর নোটিস ও সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে জরিমানা আরোপ করেছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, ইসলামী ফ্রন্ট, এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কয়েকজন প্রার্থীকে আগাম প্রচার ও দলীয় প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে এবং প্রার্থী ও সমর্থকদের আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশাল নৌবহর উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম শেষে দেশে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ট্রাম্প বলেন, এই বহর পাঠানোর উদ্দেশ্য ইরানের ওপর নজর রাখা, যদিও তা ব্যবহার করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম এবং কয়েকটি গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ ইরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান নেবে বলে তারা জানান। এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক সতর্কতা বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়, যদিও ট্রাম্প বলেছেন, তাৎক্ষণিক কোনো সংঘাতের পরিকল্পনা নেই।
২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত জনি সিদ্দিকের একটি নিবন্ধে মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকে ইসলামে গুরুতর গুনাহ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে বিশেষ করে গ্যাসের তীব্র সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলেছে। অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কৃত্রিম অভাব দেখিয়ে সিলিন্ডার ও শিল্পকারখানার গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা জনজীবন ও শিল্প উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। নিবন্ধে একাধিক হাদিস উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, যারা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্য মজুত করে, তারা অভিশপ্ত এবং পরকালে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে। ইমাম নববি ও আবু লাইসসহ আলেমদের মত অনুযায়ী, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি বা মুনাফার আশায় পণ্য গুদামজাত করা নিষিদ্ধ। লেখক ব্যবসায়ী সমাজকে সততা ও ন্যায্যমূল্যে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন। নিবন্ধটি শেষ হয়েছে নৈতিক আহ্বানের মাধ্যমে, যেখানে বলা হয়েছে—অল্প লাভের লোভে যেন কেউ পরকাল নষ্ট না করে, বরং হালাল উপায়ে ব্যবসা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা উচিত।
হাইকোর্ট ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ বহাল রেখেছে, যেখানে বলা হয়েছে কোনো পুরুষ প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েও সহজে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবেন না। এজন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমোদন নিতে হবে। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায়ে নারী ও পুরুষ উভয়ের পারিবারিক অধিকার সমানভাবে সংরক্ষিত হয়েছে এবং বিদ্যমান আইন কার্যকর থাকবে। আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু গণমাধ্যম ভুলভাবে প্রচার করেছে যে দ্বিতীয় বিয়েতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি লাগবে না। তারা বলেছেন, হাইকোর্ট এমন কোনো রায় দেয়নি এবং এ ধরনের সংবাদ আদালত অবমাননার শামিল। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরাও এ বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আদালতের রায় ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং প্রকৃতপক্ষে ১৯৬১ সালের আইনই বহাল রয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে যে, ভুল সংবাদ প্রচার আদালত সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। আইনজীবীরা সংবাদ প্রকাশের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে আদালতের রায় সম্পর্কে ভুল ধারণা না ছড়ায়।
আলী ওসমান শেফায়েতের এই লেখায় ১৯৮১ সালের মে মাসের ঘটনাবলি পুনরালোচিত হয়েছে, যখন বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ নিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সংকট দেখা দেয় এবং একই মাসে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হন। লেখায় বলা হয়, ভারত দ্বীপে বাহিনী মোতায়েন করলে জিয়া দৃঢ় অবস্থান নেন এবং বাংলাদেশের নৌবাহিনীর গানবোট পাঠিয়ে সরাসরি প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের নেতৃত্বে এই প্রতিরোধের মুখে ভারত পিছু হটে এবং দ্বীপটিকে ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ ঘোষণা করে। লেখক জিয়ার এই আপসহীন অবস্থানকে তার বৃহত্তর আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবে দেখিয়েছেন, যেখানে তিনি সার্ক গঠনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো গড়তে চেয়েছিলেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে তার হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের সার্বভৌম অবস্থানকে দুর্বল করে দেয় এবং পরবর্তী সরকারগুলো তালপট্টি ইস্যুতে আগের মতো দৃঢ়তা দেখাতে ব্যর্থ হয়। ২০১৪ সালে সালিশি আদালতের রায়ে দ্বীপটি ভারতের ভাগে পড়ে। লেখাটি উপসংহারে বলে, জিয়া ও তালপট্টির ইতিহাস আজও বাংলাদেশের সার্বভৌম চেতনার প্রতীক।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মেহেরাবাড়ী এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের মাঝখানের ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। এতে দুইজন নিহত এবং অন্তত বারোজন আহত হন। ঘটনাস্থলেই যাত্রী শাহজাহান সিরাজ (৪০) মারা যান এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর বাসের হেলপার মো. অনিক মিয়া (২৮) মৃত্যুবরণ করেন। আহতদের প্রথমে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং গুরুতর আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতরা হলেন ভালুকার বিরুনিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে শাহজাহান সিরাজ এবং মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জগন্নাথদিয়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে বাসের হেলপার মো. অনিক মিয়া। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা খায় এবং উল্টে যায়। ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ওসি এবিএম মেহেদী মাসুদ জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।