জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশের আকাশে প্রবেশ করা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার আগেই ভূপাতিত করা হয়েছে। শনিবার মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা ঘটে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছুড়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। এএফপি জানিয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তবে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাবে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। বাহরাইন নিশ্চিত করেছে যে দেশটির মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম নৌবহরের সদর দফতর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া কুয়েত ও আবুধাবিতেও ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা বিস্ফোরণের শব্দ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল এবং তদন্ত চলছে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইউরোপে বিভাজন দেখা দিয়েছে। ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষে থাকলেও ফ্রান্স, নরওয়ে, স্পেন ও বেলজিয়াম প্রকাশ্যে হামলার বিরোধিতা করেছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ বলেছেন, ইসরাইলের প্রতিরোধমূলক হামলার দাবি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, কারণ এমন হামলার জন্য অবিলম্বে হুমকি থাকা প্রয়োজন। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভোট দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আলোচনার মাধ্যমে আগেই সমাধান সম্ভব হয়নি এবং ইরানি জনগণকে তাদের সরকারের সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হবে না। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের একতরফা সামরিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এসব পদক্ষেপ পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল করছে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছেন যে, এই সংঘাত আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
ইরানে সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলার বিরোধিতা করে ওমান মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ হিসেবে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে। শনিবার সকালে হামলাটি ঘটে, যখন ওমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি গুরুতর কূটনৈতিক আলোচনা ব্যাহত করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা বৈশ্বিক শান্তির উদ্দেশ্য কোনোটিই রক্ষা করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে আলবুসাইদি জানান, তিনি হামলায় মর্মাহত এবং ক্ষতিগ্রস্ত নিরপরাধ মানুষের জন্য প্রার্থনা করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানান যেন তারা এই সংঘাতে আরও গভীরে জড়িয়ে না পড়ে, উল্লেখ করে বলেন, “এটা আপনাদের যুদ্ধ নয়।” ওমানের এই অবস্থান দেশটির মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তার স্বতন্ত্র অবস্থানকে স্পষ্ট করে। ইসরাইলি হামলার পর ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভঙ্গুরতা তুলে ধরছে।
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ৩ মার্চ থেকে। যাত্রীরা ১২ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত যেকোনো দিনের টিকিট কিনতে পারবেন। শনিবার রাজধানীর গাবতলিতে বাংলাদেশ বাস–ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংগঠনের সেক্রেটারি শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাকেশ জানান, ৩ মার্চ সকাল থেকে কাউন্টার ও অনলাইন—দুই মাধ্যমেই টিকিট বিক্রি হবে। যাত্রীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পছন্দের বাস ও আসন বেছে নিতে পারবেন। তিনি বলেন, বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কোনো ভাড়া নেওয়া যাবে না এবং অনলাইনেও একই ভাড়া কার্যকর থাকবে। প্রতিটি কাউন্টারে বিআরটিএ অনুমোদিত ভাড়ার চার্ট টাঙানো বাধ্যতামূলক করা হবে। টিকিট কালোবাজারি রোধে বিভিন্ন কাউন্টারে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান রাকেশ।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং দেশটিকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের সংঘাত আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। ম্যাক্রোঁ বলেন, বর্তমান উত্তেজনা সবার জন্য বিপজ্জনক এবং এটি বন্ধ করা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এখন সময়ের দাবি। ম্যাক্রোঁ জানান, ফ্রান্স তার জাতীয় ভূখণ্ড, নাগরিক এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ফরাসি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। পাশাপাশি, নিকটতম অংশীদারদের অনুরোধে তাদের সুরক্ষায় সামরিক ও কৌশলগত সম্পদ মোতায়েনের প্রস্তুতিও রয়েছে। এদিকে, পাকিস্তান, নরওয়ে ও বেলজিয়াম কড়া ভাষায় উদ্বেগ ও সমালোচনা প্রকাশ করে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের “একতরফা” সামরিক পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চিত ও বৈরী করে তুলছে। সানচেজ একই সঙ্গে ইরান সরকার ও রেভল্যুশনারি গার্ডের কর্মকাণ্ডও প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানান এবং আন্তর্জাতিক আইনের পূর্ণ সম্মান নিশ্চিত করার দাবি তোলেন। তার এই মন্তব্য আসে এমন সময়ে, যখন ইরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ছে। স্পেনের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
শনিবার ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান আবারও ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার পর দেশজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজানো হয়েছে। ইসরাইলি বিমান বাহিনী বর্তমানে হামলা প্রতিহতের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অভেদ্য নয়, তাই জনগণকে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ইসরাইলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। এ ঘটনার আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশের মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ইসরাইল বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং নাগরিকদের সতর্ক থেকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। শনিবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক এই নিন্দা জানান এবং সকল পক্ষকে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করেন যে, এ ধরনের হামলা কেবল মৃত্যু, ধ্বংস ও মানবিক দুর্ভোগ ডেকে আনবে। তুর্ক বলেন, তিনি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা এবং ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তার মতে, যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতে বেসামরিক নাগরিকরাই চূড়ান্ত মূল্য দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা কোনো সমাধান নয়, বরং তা আরও মৃত্যু ও ধ্বংস ডেকে আনে। জাতিসংঘ কর্মকর্তা সকল পক্ষকে সংযম বজায় রাখতে, উত্তেজনা কমাতে এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানান, যাতে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি এড়ানো যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগে সরকার দুর্বল পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সংস্থার গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল এবং রাষ্ট্রের হাতে আরও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল। তিনি মনে করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগে আরও শক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত ছিল। খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, বর্তমান গভর্নরের সঙ্গে খেলাপি ঋণ ও বিশেষ সুবিধা সংক্রান্ত আলোচনা যুক্ত হয়েছে, যা এড়াতে বিকল্প প্রার্থী বিবেচনা করা যেত। তিনি ভবিষ্যতে স্পষ্ট যোগ্যতা কাঠামো ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া প্রণয়নের আহ্বান জানান। সিপিডি সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সংস্কারমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে বলে, অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ধরে রাখা উপকারী হতে পারত। সংস্থাটি ভবিষ্যতে গভর্নর নিয়োগে আইনগত ভিত্তি ও নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের পরামর্শ দেয় এবং ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের বাছাই পদ্ধতির উদাহরণ তুলে ধরে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে নিয়ন্ত্রণ শিথিলের প্রবণতা নিয়ে সতর্ক করে কঠোর তদারকি ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলা এবং তেহরানের পাল্টা জবাবের পর বিশ্বনেতারা প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন বলে আলজাজিরা জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়ন স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে ইরানের ‘হত্যাকারী শাসনব্যবস্থার’ বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তিনি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কার্যালয় ইরানের বেসামরিক জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্মানের আহ্বান জানায়। মেলোনি উত্তেজনা কমাতে মিত্র ও আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলেও জানানো হয়। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, তার দেশ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সাহসী ইরানি জনগণের পাশে রয়েছে এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পদক্ষেপকে ‘বেপরোয়া’ বলে আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, তারা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে দিতে চায় না এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, দেশটি আত্মরক্ষার অধিকারের আওতায় সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষা করবে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আরাঘচি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। আলোচনায় তিনি জানান, ইরান তার ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় এবং বৈধ আত্মরক্ষার অধিকারের আওতায় প্রতিরক্ষামূলক ও সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তিনি এসব দেশকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে তাদের স্থাপনা বা ভূখণ্ড যেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয়। এই বিবৃতি এমন সময়ে এসেছে যখন ইরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে এবং রয়টার্সের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত হয়েছেন।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা জুফাইর এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে, যেখানে একটি মার্কিন নৌ ঘাঁটি অবস্থিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় মন্ত্রণালয় জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন সময়ে নেওয়া হয়েছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে এবং বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে বাহরাইনের মন্ত্রণালয় সরিয়ে নেওয়ার কারণ বা জুফাইরের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এটি ইঙ্গিত দেয় যে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে, যদিও সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শনিবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে শ্রমিকদের পাঁচ ঘণ্টার অবরোধে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বি ব্রাদার্স কোম্পানি লিমিটেডের শ্রমিকরা ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা মহাসড়কে অবস্থান নিলে প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয় এবং যাত্রী ও অ্যাম্বুলেন্স আটকা পড়ে। শ্রমিকদের অভিযোগ, মালিকপক্ষ বেতন প্রদানে টালবাহানা করছে এবং প্রতিবাদকারীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। কারখানার ভেতরে ও বাইরে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ লাঠিচার্জ করে, এতে সংঘর্ষ শুরু হয়। উত্তেজিত শ্রমিকরা যানবাহন ও কারখানার কিছু অংশ ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে শ্রমিক, পুলিশ, পথচারী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। সংবাদ পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের ডিসেম্বর মাসের বেতন রোববার এবং জানুয়ারি মাসের বেতন বুধবার দেওয়ার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে কাজে ফিরে যান।
গত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অধীনে অন্তত ১৯টি স্থানে এসব ঘাঁটি রয়েছে। সৌদি আরব, বাহরাইন, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, কাতার ও সিরিয়াসহ একাধিক দেশে এই ঘাঁটিগুলো অবস্থিত। এসব স্থাপনায় সামরিক ও বেসামরিক মিলিয়ে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হয়। ঘাঁটিগুলোতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটি অঞ্চলের বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটি, যেখানে সেন্টকমের ফরওয়ার্ড সদর দফতর রয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দফতর এবং কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা ঘাঁটি গোয়েন্দা ও যুদ্ধ বিমান অভিযানে সহায়তা করে। ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনী মূলত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরাক থেকে ধীরে ধীরে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে বাগদাদ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানে ইন্টারনেট সেবা কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস। সংস্থাটি জানায়, নেটওয়ার্ক ডেটা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে দেশটিতে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট শাটডাউন চলছে, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠোর বিধিনিষেধগুলোর একটি। নেটব্লকস আরও জানায়, গত বছর ইসরায়েলি হামলার সময় যেভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল, এবারও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। প্রতিবেদনে কতদিন এই অবস্থা চলবে বা কোন অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। ঘটনাটি এমন সময় ঘটছে যখন ইরানের স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবর এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সতর্কতা নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।