ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় পরমাণু আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ২৪টি শহরে যৌথ বিমান হামলা চালায়। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় ২০১ জন নিহত ও ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হয়েছে মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে, যেখানে ৮৫ জন প্রাণ হারান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিরাপদ আছেন বলে জানা গেছে, যদিও ইসরাইল দাবি করেছে, তাদের হামলায় ইরানের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। হামলার জবাবে ইরান ইসরাইলের বিভিন্ন শহর ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে ইরাক, সিরিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলোতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ বন্ধ হয়ে গেছে এবং ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলাকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জাতিসংঘ, চীন, ফ্রান্স, তুরস্ক ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের পাল্টা হামলার নিন্দা জানিয়ে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ২০২৬ সালের ১ মার্চ রবিবার নিহত হয়েছেন বলে ইরানের তাসনিম ও ফার্স বার্তা সংস্থার বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে। পরবর্তীতে তেহরান খামেনি ও কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার শাহাদাতের বিষয়টি নিশ্চিত করে। তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি সরকারি কমপ্লেক্সে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই ঘটনা ঘটে। হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে খামেনির অবস্থান নিয়ে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন। তিনি দেশের রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতেন। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত এই পদটি প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের ওপরে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেয়। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও বাসিজ বাহিনীর আনুগত্য তার অবস্থানকে শক্তিশালী করেছিল। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, সিআইএ কয়েক মাস ধরে খামেনির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এবং ইসরাইলকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে হামলার সময় পরিবর্তন করা হয় এবং তেহরানের ওই কমপ্লেক্সে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
ইরানে ইসরাইলি হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতি নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে আল–জাজিরা ও রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। ঘটনাটি ইরানে ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হলেও সুনির্দিষ্ট স্থান বা সময় জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দাবি করেছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি নিজেও এই হামলায় নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে এ দাবি প্রকাশ করেছেন। তবে ইরান সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জানায়নি। ইরানের তাসনিম ও মেহের সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা ‘অবিচল রয়েছেন ও রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন’। বিরোধপূর্ণ এসব প্রতিবেদনের কারণে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, এবং তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। কয়েক দশক ধরে এই ঘাঁটি মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করে আসছে। একই সঙ্গে ইরাকের আল–হারির বিমানঘাঁটিতেও হামলার খবর প্রকাশ করেছে ইরানের গণমাধ্যম, যা মার্কিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরান পাল্টা হামলা শুরু করে। ইরান ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে মিসাইল নিক্ষেপ করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই হামলাগুলোকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যদিও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০৮ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের মিজান নিউজ এজেন্সি, যা আল–জাজিরা উদ্ধৃত করেছে। হামলাটি শনিবার হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে ঘটে। মিনাবের প্রসিকিউশন দপ্তর এই মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। হামলার সময় বিদ্যালয়টিতে ১৭০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ঘটনাটি দক্ষিণ ইরানে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘটিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে ইরান বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা অতিরিক্ত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাইদ ইরাভানি ঘোষণা করেছেন, আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের অংশ হিসেবে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সব ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করবে। তিনি বলেন, ইরান এই অঞ্চলে শত্রু বাহিনীর সব ঘাঁটি ও স্থাপনাকে আত্মরক্ষার আইনগত কাঠামোর মধ্যে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে। আগ্রাসন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরান সর্বতোভাবে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে। ইরাভানি আরও বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে টেনে আনতে সফল হয়েছে। এই বক্তব্য আল জাজিরা সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে। ঘোষণাটি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে তেহরান আত্মরক্ষার আন্তর্জাতিক বিধান অনুযায়ী সামরিক প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি জানিয়েছে।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আটজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান আব্দুল্লাহ খালিফা আল মুফতাহ শনিবার জানান, কাতারে মোট ৬৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, সারা দেশে ১১৪টি ধাতব টুকরো শনাক্ত করা হয়েছে এবং একটি আগাম সতর্কীকরণ রাডার ব্যবস্থা ইরানের একটি ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান ইবরাহিম সুলতান আল হাশেমি বলেছেন, কাতারকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা ইরানের পক্ষ থেকে বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ, যা সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতির পরিপন্থী। কর্তৃপক্ষ হামলার সময় বা উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বা তদন্ত সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র এফি ডেফরিন জানিয়েছেন, শনিবার ইরানে চালানো এক সামরিক অভিযানে দেশটির সাতজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এই দাবি করেন এবং জানান, অভিযানে ইরানের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। ইসরাইলের দাবিতে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সাবেক সেক্রেটারি ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলী শামখানি। তিনি ২০২৫ সালের জুনে তেহরানে নিজ বাসায় হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। নিহতদের তালিকায় আরও আছেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর। সূত্রে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া বা স্বাধীনভাবে এই দাবির সত্যতা যাচাইয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই প্রবাসী শ্রমিক ও ইউরোপ-আমেরিকাগামী কানেক্টিং ফ্লাইটের যাত্রী। শনিবার রাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিমানবন্দরে গিয়ে যাত্রীদের অবস্থা পরিদর্শন করেন এবং সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করেন। সংবাদ সম্মেলনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করে বিমানবন্দরের পরিস্থিতি ও যাত্রীদের ভোগান্তি সম্পর্কে জানতে চান। মন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশন যৌথভাবে যাত্রীদের থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা করছে। তার তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ৫০ জন এবং সিভিল এভিয়েশনের ব্যবস্থাপনায় আরও ৮০০ জন যাত্রীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শনিবার বিকেল থেকে ঢাকা থেকে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সরকার বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য হোটেল ও পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চালুর বিষয়টি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন। শনিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, খামেনির মৃত্যুর খবরটি সঠিক বলে তাদের বিশ্বাস। ট্রাম্প আরও বলেন, তাদের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী এটি একটি নিশ্চিত খবর এবং খামেনি বহু মানুষকে হত্যা করেছেন ও একটি দেশকে ধ্বংস করেছেন। আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা কবে পাওয়া যাবে—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, তিনি অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তারা বেশ নিশ্চিত যে তথ্যটি সঠিক। তিনি দাবি করেন, ইরানের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের বেশিরভাগ মানুষই এখন আর নেই। শনিবার সকালে খামেনির বাসভবনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে বড় ধরনের হামলা চালায় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। নিউইয়র্ক টাইমস পরে স্যাটেলাইটচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে খামেনির প্রাসাদ কমপ্লেক্স সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলে দেখা যায়। ঘটনাটি ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিমানবন্দরের টার্মিনাল–১ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন কর্মী আহত হন বলে কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন, যিনি স্থানীয় ওয়ায়েল আল নসিব কোম্পানিতে ক্লিনার হিসেবে কাজ করতেন। হামলার পরপরই জরুরি প্রক্রিয়া কার্যকর করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং এলাকা নিরাপদ ঘোষণা করা হয়। কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, একজন বাংলাদেশি কর্মী আহত হয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার নিয়মিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কুয়েতের সিভিল এভিয়েশন মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল-রাজি বলেন, ড্রোনটি সরাসরি বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে এবং বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও পুনর্গঠনের কাজ চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যাত্রী ও কর্মচারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নতুন কোনো অগ্রগতি হলে তা অফিসিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে জানানো হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও মেহর নিউজ জানিয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জীবিত ও সুস্থ আছেন। এই তথ্য আসে এমন সময়, যখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, এক শীর্ষ ইসরাইলি কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে ২৮ ফেব্রুয়ারির যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন এবং তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রায় সব ইরানি কর্মকর্তা জীবিত, সুস্থ এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন। বিরোধপূর্ণ এসব প্রতিবেদনের কারণে ইরানের নেতৃত্ব পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যদিও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম খামেনির সুস্থতার বিষয়টি জোর দিয়ে জানিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর উত্তরায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। শনিবার ইফতারের পর সংগঠনের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের নেতৃত্বে এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি উত্তরার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে, যেখানে সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা ইরানের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আগ্রাসন বন্ধের দাবি তোলেন। তারা শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং নরসিংদীতে ধর্ষণের ঘটনার বিচার দাবি করেন। উত্তরার সড়কগুলোতে বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদ। এই বিক্ষোভে আন্তর্জাতিক আগ্রাসন ও দেশীয় অপরাধের বিরুদ্ধে জনমতের প্রতিফলন দেখা যায়, যা রাজধানীতে সংগঠিত প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
একজন শীর্ষ ইসরাইলি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রয়টার্সকে তিনি জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন এবং তার লাশ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরানের প্রায় সব কর্মকর্তা জীবিত, সুস্থ এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন। এই বিপরীত দাবিগুলো ইরানে হামলার পর প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। খবরে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলি সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন যে ইরানের সাতজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, এবং অন্যান্য আঞ্চলিক প্রতিবেদনে আহতদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের উজান থেকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় বগুড়া অঞ্চলের যমুনা নদীতে তীব্র নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি শুষ্ক মৌসুমে নদীর আটটি নৌপথ বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে মারাত্মক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। নদীতে অসংখ্য চর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং নদীঘেঁষা এলাকাগুলোর মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ যমুনা নদীর বাংলাদেশ অংশ ২২০ কিলোমিটার, যার গড় গভীরতা ৯.৫ মিটার থেকে কমে প্রায় ২ মিটারে নেমে এসেছে। ভারত ও চীনের উজানে নির্মিত অন্তত ১৪টি বাঁধকে এ সংকটের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় মাঝি ও ইজারাদাররা জানান, এখন ছোট নৌকাও চলাচল করতে পারছে না, ফলে ১৪১টি চর গ্রামের দুই লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাঙ্গালী নদীতে খনন কাজ চলছে, তবে যমুনার জন্য কোনো প্রকল্প নেই। প্রকৌশলীরা সতর্ক করেছেন, উজানের বাঁধের প্রভাবে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত না হলে এ অঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হতে পারে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।