ইরান বহু বছর ধরে তার ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার রক্ষায় ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার বা ‘মিসাইল সিটি’ কৌশল অনুসরণ করে আসছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একতরফা যুদ্ধ শুরু করার পর দেশটি এখন সেই কৌশল থেকে সরে আসছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলোর ওপর নজরদারি ও হামলা চালানো হচ্ছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, শিরাজ, ইসফাহান, তাবরিজ ও কেরমানশাহের কাছে বাঙ্কারগুলোর প্রবেশপথে ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও লঞ্চারের ধ্বংসাবশেষ। বিশ্লেষকদের মতে, ভূগর্ভস্থ সাইলো পুনঃব্যবহারে প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে ইরান এই কৌশল থেকে সরে এসেছে। সংঘাত শুরুর আগে দেশটি কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ট্রাক লঞ্চার ছড়িয়ে দিয়েছিল যাতে সহজে লক্ষ্যবস্তু না হয়। মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কমে গেছে, যা ইরানের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হতে পারে। যুদ্ধের আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে—কেউ বলছেন প্রায় ২,৫০০, আবার কেউ বলছেন প্রায় ৬,০০০ পর্যন্ত।
ওপেনএআই-এর দ্রুত তহবিল সংগ্রহের গতি মন্থর হয়েছে, কারণ প্রধান বিনিয়োগকারী এনভিডিয়া ও মাইক্রোসফট বাড়তে থাকা আর্থিক চাপের মধ্যে তাদের বিনিয়োগ পুনর্মূল্যায়ন করছে। এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং ঘোষণা করেছেন যে কোম্পানি ওপেনএআই-তে আরও ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, তবে এটি হতে পারে শেষ বিনিয়োগ যতক্ষণ না কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে আসে। স্যাম অল্টম্যানের নেতৃত্বাধীন এই এআই প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে ১৬৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি সংগ্রহ করেছে, কিন্তু এখনো মুনাফা অর্জন করতে পারেনি এবং প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের ঋণে জর্জরিত। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে ওপেনএআই-এর বিশাল অবকাঠামো ব্যয় ও অনিশ্চিত আয় মডেল বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। এনভিডিয়া ও মাইক্রোসফটের শেয়ার শক্তিশালী আয় প্রতিবেদন সত্ত্বেও কমে গেছে, যা ওপেনএআই ও বৃহত্তর এআই খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ প্রতিফলিত করছে। বিশেষজ্ঞরা ডটকম বুদবুদের সঙ্গে তুলনা টেনে বলেছেন, অতিমূল্যায়ন ও পারস্পরিক বিনিয়োগের ধারা উদ্বেগজনক। বিশ্লেষকদের মতে, ওপেনএআই-কে ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ২০০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে হবে তাদের পূর্বাভাস পূরণে, যখন মামলা ও ব্যয় বাড়ছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ওপেনএআই ব্যর্থ হলেও এনভিডিয়া বা মাইক্রোসফট বড় ক্ষতির মুখে পড়বে না, তবে এটি প্রযুক্তি খাতজুড়ে প্রভাব ফেলতে পারে এবং এআই বিনিয়োগ বুদবুদের আশঙ্কা বাড়াতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ২৪৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা-পাল্টা হামলার জেরে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। শুক্রবার একদিনেই ৩৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি এবং ৫ মার্চ ৩৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়। শুক্রবারের বাতিল ফ্লাইটগুলোর মধ্যে কুয়েত, জাজিরা, এয়ার অ্যারাবিয়া, কাতার, ফ্লাই দুবাই, ইউএস-বাংলা, গালফ এয়ার, বিমান বাংলাদেশ ও এমিরেটসের ফ্লাইট রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন জাহাজ, বিমান ও রাডার সিস্টেমের অবস্থান সম্পর্কে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। অবগত সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, এই তথ্য ইরানকে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা চালাতে সহায়তা করছে। যদিও তেহরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র মস্কো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার নিন্দা জানিয়েছে, তবুও তারা সংঘাতে সরাসরি অংশ না নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়ার এই সহায়তা পরোক্ষভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দেয়। একই সূত্র জানিয়েছে, চীন ইরানকে এ ধরনের সহায়তা দিচ্ছে না। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ইরান রাশিয়ার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো অস্ত্র সরবরাহের অনুরোধ করেনি এবং তেহরানের সঙ্গে মস্কোর অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। রাশিয়া এখনো গোয়েন্দা সহায়তার অভিযোগে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি, ফলে তাদের সম্পৃক্ততার মাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ শুক্রবার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য কমিটির সভায় তিনি জানান, হাসপাতালটিতে চিকিৎসক ও জনবল সংকট রয়েছে এবং অবকাঠামোগত সমস্যাও বিদ্যমান। ২০০৯ সালের পর এটাই প্রথম সভা, যা এখন থেকে প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন এবং গড়ে এক হাজার রোগী চিকিৎসা নেন, কিন্তু সক্রিয় চিকিৎসক মাত্র পাঁচজন। চিকিৎসকদের আবাসন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীর স্বল্পতা ও ইসিজি ও ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনসহ সরঞ্জামের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি এসব সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান। হাসনাত আবদুল্লাহ আরও জানান, রোববার দুইজন নতুন চিকিৎসক যোগ দেবেন এবং হাসপাতাল ভবনটি চারতলা করে পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ছয় কোটি টাকার বরাদ্দ আসছে, যা ২০২৯ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
লেবানন সীমান্তের কাছে অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আটজন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এই হামলায় গিভাতি ব্রিগেডের পাঁচজন সেনা গুরুতরভাবে এবং আরও তিনজন সামান্য আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই হামলার ফলে সীমান্ত এলাকায় আরও সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যদিও হামলাকারীদের পরিচয় বা ঘটনার সুনির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ইরান ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে কুর্দি সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে। তেহরান জানায়, উত্তর ইরাকে অবস্থানরত যেসব গোষ্ঠীকে তারা ইরানবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে, তাদের অবস্থানেই এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলার সময় এমন খবর এসেছে যে ইরাকভিত্তিক কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সমন্বয় করছে। এসব গোষ্ঠী ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে অংশ নিতে পারে। ঘটনাটি ইরান, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল এবং বহিরাগত পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। প্রতিবেদনে হামলার পরিণতি, ক্ষয়ক্ষতি বা ইরাক ও কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে সরকার এখনো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। শুক্রবার বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রির বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত মূল্য আদায় আইনগত অপরাধ। এছাড়া, প্রতি মাসের শুরুতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করে থাকে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, কিছু ভোক্তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে অননুমোদিতভাবে মজুত করার চেষ্টা করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। জনগণের ভয় ও আতঙ্ক কমাতে বিপিসি জানিয়েছে, বিদেশ থেকে তেল আমদানি ও দেশের বিভিন্ন ডিপোতে সরবরাহ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে নিয়মিত তেল পাঠানো হচ্ছে। বিপিসি আশা প্রকাশ করেছে, অল্প সময়ের মধ্যেই দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের বাফার স্টক গড়ে উঠবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আধুনিক সরকারি সেবা দিতে হলে ইনফরমেশন শেয়ারিংয়ে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অর্জন জরুরি। তিনি বলেন, এটি সম্ভব হলে গ্রাম পর্যায়েও মেধা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ইনফরমেশন শেয়ারিং একটি হাইব্রিড সিস্টেমে পরিচালিত হচ্ছে এবং ডিভাইস-নির্ভর সমাজে তথ্য বিনিময় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি গণমাধ্যমের সমস্যা সমাধানে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমের সমস্যা সমাধান করতে হলে এর গঠন বা এ্যানাটমি সঠিকভাবে বুঝতে হবে। তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানান।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে—এমন গুজবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সিলেট নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে হুলুস্থুল পরিস্থিতি তৈরি হয়। অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল নিতে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। আতঙ্কে অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনতে চাওয়ায় কিছু পাম্পে রেশনিং চালু হয়, মোটরসাইকেলপ্রতি ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হয়নি। ব্যবসায়ীরা জানান, অতিরিক্ত চাহিদার কারণে সাময়িক কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে, তবে রোববার থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। জ্বালানি ব্যবসায়ীরা বলেন, সরকার মার্চ মাসে তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে—ডিজেল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা ও অকটেন ১২০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। মাসের মাঝামাঝি কোনো মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নেই। তারা জনগণকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। সিলেট বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি ও কেন্দ্রীয় ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনও জানিয়েছে, পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত তেল মজুত আছে এবং প্রকৃত কোনো সংকট হয়নি।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু হঠাৎ বেড়ে যাওয়া জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রেক্ষিতে শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) রাজধানীর আসাদ গেট এলাকার পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ও দাম নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এ সময় মন্ত্রী সবাইকে অতিরিক্ত তেল ক্রয় ও মজুদ না করার আহ্বান জানান এবং আশ্বস্ত করেন যে দেশে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে ও সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। তিনি বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই এবং সরকার সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। চালকসহ সাধারণ জনগণকে অহেতুক আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। তার এই পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল গুজব প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা। সরকার জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করতে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ সতর্ক করেছেন যে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা ইউরোপের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মের্জ আরও উল্লেখ করেন যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের অংশীদার দেশগুলোর নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি বলেন, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কারও স্বার্থে নয় এবং এর ফলে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাও বিপদের মুখে পড়তে পারে। মের্জ সতর্ক করেন যে ইরানে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে তা ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তাকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে এবং একই সঙ্গে অসংযত অভিবাসনের ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে। তার এই মন্তব্য ইউরোপে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে, বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক ভারসাম্যের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে।
দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম পরিবেশবান্ধব এই কারখানাটি ২০২৬ সালের ৪ মার্চ বিকেল ৩টা থেকে উৎপাদন বন্ধ রাখে। বোরো ধানের ভরা মৌসুমে সার সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কারখানাটি ২০২৪ সাল থেকে দৈনিক দুই হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করে আসছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্বোধনের পর থেকে এটি শতভাগ উৎপাদনে ছিল এবং বন্ধের আগের ২৪ ঘণ্টায় ২,৮৪৬ মেট্রিক টন সার উৎপাদন হয়। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৭১–৭২ এমসিএ গ্যাস প্রয়োজন হলেও ৫২–৫৩ এমসিএ গ্যাস পেলেও উৎপাদন চালানো সম্ভব। বর্তমানে গুদামে প্রায় পাঁচ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ কবে পুনরায় শুরু হবে তা নিশ্চিত নয়। কারখানা কর্তৃপক্ষ আশা করছে, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হলে উৎপাদন চালু করা যাবে এবং সার বিক্রির অর্থ থেকে ঋণের কিস্তি পরিশোধ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের সপ্তম দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছেন। আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন যে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না, কেবল নিঃশর্ত আত্মসমর্পণই একমাত্র পথ। তিনি আরও বলেন, বর্তমান ইরানি নেতৃত্বকে তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না এবং ইরানে নতুন নেতৃত্ব গঠনের আহ্বান জানান। ট্রাম্পের মতে, নতুন নেতৃত্ব ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানকে পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, কারণ ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ সাধারণত যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে আরোপিত কঠোর শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বদলালেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পল্টনের ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসের সিন্দুরপুর হলে খেলাফত মজলিস আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি বলেন, এখন রাষ্ট্রপতির বক্তব্য 'জয় বাংলা' নয়, 'বাংলাদেশ জিন্দাবাদ' দিয়ে শেষ হয়—যা কেবল দলের পরিবর্তনকেই প্রতিফলিত করে, মানুষের জীবনে কোনো বাস্তব উন্নতি আনেনি। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নোয়াখালীর হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনার পরও সুশীল সমাজ ও নারী অধিকার কর্মীরা নীরব রয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি মানুষের অধিকার রক্ষায় সবসময় সরব থাকবে। ইফতার মাহফিলে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।