লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, একই নৌকা থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি। নিখোঁজদের পরিবার জানিয়েছে, নৌকাডুবি নয়, বরং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নৌকাটি প্রায় এক সপ্তাহ সাগরে ভাসমান ছিল এবং অনাহার ও পিপাসায় তাদের মৃত্যু হয়। সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে দিরাই, দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুরের বাসিন্দারা রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্যে জানা যায়, অনেক মৃতদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জনকে গুরুতর অবস্থায় ক্রিটের হেরাক্লিয়ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জীবনঝুঁকির ভয়াবহ বাস্তবতা আবারও সামনে এনেছে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) বৃহস্পতিবার ক্যামেরুনের ইয়াউন্ডেতে তাদের ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন শুরু করেছে, যেখানে নতুন বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়মে ঐকমত্য না হলে “অব্যবস্থাপূর্ণ পতনের” আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা বলেন, বিশ্ব গত ৮০ বছরে সবচেয়ে বড় বাণিজ্য বিঘ্নের মুখোমুখি এবং পুরনো বিশ্বব্যবস্থা আর ফিরে আসবে না। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বাড়তে থাকা সুরক্ষাবাদের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে “সবচেয়ে অনুকূল জাতি” (এমএফএন) নীতিকে ঘিরে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়, যা সব অংশীদারের জন্য সমান শুল্ক প্রয়োগের বাধ্যবাধকতা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই ব্যবস্থাকে অকার্যকর বলে ছোট গোষ্ঠীর মধ্যে চুক্তির আহ্বান জানান। চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও এমএফএন নীতিকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের “ভিত্তি” হিসেবে রক্ষা করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও নমনীয় কাঠামোর প্রস্তাব দেয়, আর যুক্তরাজ্য সতর্ক করে যে ঐকমত্য না হলে ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। ইয়াউন্ডের এই বৈঠক বহু বছরের স্থবির আলোচনার পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রায়ই সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আপত্তিতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার এক মাস পর দেশজুড়ে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট হলেও মার্কিন কংগ্রেস এখনো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই সপ্তাহে সিনেটে ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন আবারও ব্যর্থ হয়েছে, ৫৩–৪৭ ভোটে দলীয় লাইনে বিভক্ত ফলাফলে। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতারাও ভোট আয়োজন থেকে সরে গেছেন, যদিও প্রস্তাবটি পাস হওয়ার মতো সমর্থন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক সতর্কতা ও রিপাবলিকানদের দলীয় আনুগত্য এই অচলাবস্থার কারণ। জরিপে দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তার দায়িত্ব গ্রহণের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। প্রশাসন এখনো যুদ্ধের কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য ঘোষণা করেনি, বরং ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যাকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। পেন্টাগন অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে, যা স্থলযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। কিছু রিপাবলিকান ২০০ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধ তহবিল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আর কিছু রক্ষণশীল নেতা ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” প্রতিশ্রুতির সঙ্গে যুদ্ধের বিরোধ দেখছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধের স্থায়িত্ব ও অর্থনৈতিক প্রভাবই আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর রাজনৈতিক ফল নির্ধারণ করবে।
লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ শনিবার ১৮ জন প্যালেস্টাইন অ্যাকশন সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে, কয়েক দিন আগে সংস্থাটি এ ধরনের গ্রেপ্তার স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেয়। প্রতিবাদকারীরা নিউ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সিঁড়িতে বসে গণহত্যার বিরোধিতা ও প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন জানিয়ে লেখা সাইন ধরে ছিলেন। ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার জেমস হারম্যান জানান, সরকারের আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের রায়ের প্রভাব কার্যকর হবে না বলে পুলিশ আবারও আইন প্রয়োগ শুরু করেছে। ফেব্রুয়ারিতে হাই কোর্ট রায় দিয়েছিল যে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করা অবৈধ ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে সরকার আপিলের অনুমতি পেয়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রেখেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ রায়টির বিরুদ্ধে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট পল গোল্ডস্প্রিং সংশ্লিষ্ট শত শত মামলার কার্যক্রম আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছেন। সমালোচকরা বলছেন, পুলিশের এই পদক্ষেপ আদালতের রায়ের পরিপন্থী। জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই দমননীতির সমালোচনা করেছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অপরাধে পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করছে। ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস ১১ এপ্রিল ট্রাফালগার স্কয়ারে গণস্বাক্ষর প্রদর্শনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
ইরানের সাবেক শাহের পুত্র রেজা পাহলভি শনিবার টেক্সাসের গ্রেপভাইনে অনুষ্ঠিত কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে (সিপ্যাক) ভাষণ দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আহ্বান জানান ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না করে বরং শাসন পরিবর্তনের পথে এগোতে। “ইরানকে আবার মহান করব” বলে ঘোষণা দিয়ে তিনি দর্শকদের কাছ থেকে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা পান, যেখানে কেউ কেউ “রাজা দীর্ঘজীবী হোন” বলে স্লোগান দেন। তার বক্তব্য আসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর এক মাস পূর্তিতে, যেখানে অন্তত ১,৯৩৭ জন নিহত ও কয়েক হাজার আহত হয়েছে। পাহলভি ইরানি প্রবাসীদের মধ্যে একটি প্রভাবশালী বিরোধী কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন, যাদের অনেকেই তার ছবি ও বিপ্লব-পূর্ব পতাকা নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। যদিও কিছু প্রবাসী যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, পাহলভি ট্রাম্পের কঠোরপন্থী সহযোগীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, “এই শাসন সম্পূর্ণভাবে চলে যেতে হবে।” বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে ইরানের সরকার সহজে পতন হবে না এবং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধ রিপাবলিকানদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকানদের বড় অংশ যুদ্ধকে সমর্থন করলেও সামগ্রিকভাবে মার্কিন ভোটারদের বেশিরভাগই এর বিরোধিতা করছেন। কিছু রক্ষণশীল বিশ্লেষক ও তরুণ কর্মী যুদ্ধকে ট্রাম্পের বিদেশে জড়িত না থাকার প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন।
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তীব্র জ্বালানি সংকটে কৃষক, চালক ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে তেল পাচ্ছেন না। কাউনিয়া রেলগেট সংলগ্ন মা সুফিয়া ফিলিং স্টেশনে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে, যেখানে অনেকেই খালি হাতে ফিরছেন। স্টেশনের মালিক শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, সরবরাহ সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং যতটুকু পাওয়া যাচ্ছে তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করছেন, কোথাও কোথাও প্রতি লিটার ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের দৃশ্যমান তদারকি না থাকায় কালোবাজারি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা সতর্ক করে বলেছেন, কেউ অবৈধভাবে তেল মজুদ বা বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি সূত্র বলছে, দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই, তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে এই বক্তব্যের অমিল সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে রংপুর থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। শনিবার নগরীর কামারপাড়া বাসস্ট্যান্ডে শত শত যাত্রী টিকিটের জন্য অপেক্ষা করলেও সিট পাচ্ছেন না। অভিযোগ উঠেছে, কাউন্টারে টিকিট না থাকলেও দালালদের মাধ্যমে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণত ৮০০ টাকার ভাড়া ১৬০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, বাস ফাঁকা থাকলেও কাউন্টার থেকে বলা হচ্ছে ‘আগেই বুকিং হয়ে গেছে’। অন্যদিকে বাস কাউন্টার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে রুটে বাসের সংখ্যা ১৮ থেকে কমে ১২টিতে নেমে এসেছে। তারা দাবি করেছেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না, যদিও যাত্রীরা তা অস্বীকার করেছেন। শুক্রবার রাতে মডার্ন মোড়ে অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদে যাত্রীরা সড়ক অবরোধ করলে ২-৩ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যাত্রীরা আশঙ্কা করছেন, ২৯ ও ৩০ মার্চ পর্যন্ত টিকিটের চাহিদা বেশি থাকায় ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
২৮ মার্চ ২০২৬ প্রকাশিত সর্বশেষ ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ এক ধাপ পিছিয়ে ১৮১ নম্বরে নেমে গেছে। ভিয়েতনামের মাঠে প্রীতি ম্যাচে ৩–০ গোলে হারের পর এই পতন ঘটে। অন্যদিকে, বাংলাদেশকে হারিয়ে ভিয়েতনাম পাঁচ ধাপ এগিয়ে ১০৩ নম্বরে উঠেছে। নতুন র্যাংকিংয়ে শীর্ষ দশ দলের মধ্যেও বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এক ধাপ পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমেছে, যদিও তারা মৌরিতানিয়াকে ২–১ গোলে হারিয়েছে। ফ্রান্স ব্রাজিলকে ২–১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দুই ধাপ পিছিয়ে সপ্তম স্থানে গেছে। শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতে জয় পাওয়া স্পেন শীর্ষে রয়েছে। ইংল্যান্ড চতুর্থ স্থানে অপরিবর্তিত, পর্তুগাল এক ধাপ এগিয়ে পঞ্চম এবং নেদারল্যান্ডস ষষ্ঠ স্থানে উঠেছে। মরক্কো, বেলজিয়াম, জার্মানি ও ক্রোয়েশিয়া যথাক্রমে অষ্টম থেকে একাদশ স্থানে অপরিবর্তিত রয়েছে, আর ইতালি এক ধাপ এগিয়ে দ্বাদশ স্থানে উঠেছে। এই র্যাংকিং পরিবর্তন সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোর প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করেছে।
চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকায় শুক্রবার সকালে অভিযান চালিয়ে একটি টিনশেড গুদাম থেকে প্রায় ৬ হাজার লিটার অবৈধভাবে মজুদ করা ডিজেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। গুদামটির মালিক স্থানীয় যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আলমগীর বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় আল-আমিন ও মাসুদ নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে জানা যায়, গুদামটিতে দীর্ঘদিন ধরে চোরাই তেল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পাইকারি বিক্রি করা হচ্ছিল। পুলিশ জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে আলমগীর অবৈধভাবে তেল মজুদ বাড়িয়ে দেন। রাতের আঁধারে ট্রলারযোগে তেল এনে সকালে ঠিকাদার ও পরিবহন মালিকদের কাছে বিক্রি করা হতো। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এতদিন কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেননি। গুদামের জমির মালিক নুর বক্সের দুই ছেলে আরিফ ও আশরাফকেও সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তেল মজুদ ও চোরাচালানবিরোধী আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এই অভিযান পতেঙ্গা–কর্ণফুলী উপকূলে সক্রিয় চোরাই তেল সিন্ডিকেট উন্মোচনের পথ খুলে দিতে পারে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে ১২০টি ক্লাস্টার বোমা শনাক্ত করে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সম্প্রতি কাফরি গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় হামলা চালানোর সময় এসব বোমা নিক্ষেপ করেছিল। ফার্স প্রদেশের আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগের এক উপপ্রধান জানান, নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে বিপজ্জনক এসব বিস্ফোরক উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করেছে। প্রতিবেদনে হামলার সময় বা হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ঘটনাটি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যদিও প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে এই দাবির সত্যতা যাচাইয়ের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
ইসরাইল লেবাননের ৫০টিরও বেশি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিহ্নিত এলাকাগুলোর মানুষকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য অন্তত এক হাজার মিটার দূরে খোলা জায়গায় চলে যেতে হবে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, কেউ যদি হিজবুল্লাহ সদস্য, তাদের স্থাপনা বা সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি থাকে, তবে তারা নিজেদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। এই নির্দেশ এমন এক সময়ে এসেছে যখন অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যদিও সতর্কবার্তার কারণ বা সময় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ইসরাইলের এই নির্দেশ কার্যকর করার পদ্ধতি বা লেবাননের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া এসেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে সরে যেতে পারে। ২০২৬ সালের ২৮ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, এই চুক্তি থেকে ইরান কোনো সুবিধা পায়নি এবং এটি দেশকে হামলা থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক দলিল ও চুক্তি উপেক্ষা করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বারবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। রেজাই বলেন, ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো ইচ্ছা নেই এবং এ বিষয়ে দেশের নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালকের মন্তব্যকে ‘উস্কানিমূলক ও বিপজ্জনক’ বলে সমালোচনা করেন। রেজাই আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ৬০টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও চুক্তি থেকে সরে গেলেও, ইরান যদি এনপিটি ত্যাগ করে, তবে পশ্চিমা বিশ্বের বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এখন ইরানের জন্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে, যা তেহরানের পারমাণবিক নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঙ্কারা সংকট নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে চায়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং যুদ্ধ বন্ধে তুরস্কের প্রচেষ্টার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। এর আগে পাকিস্তান জানিয়েছে, যুদ্ধের তীব্রতা কমাতে ২৯ ও ৩০ মার্চ ইসলামাবাদে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তুরস্কের পাশাপাশি সৌদি আরব ও মিসরও অংশ নেবে। এই বৈঠককে ঘিরে আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হচ্ছে। তবে তুরস্ককে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে, কারণ একদিকে তার প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত, অন্যদিকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে তার অবস্থান। এই দ্বৈত বাস্তবতা আঙ্কারার মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি এবং চাগোস দ্বীপপুঞ্জের দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যৌথ ঘাঁটির বিষয়ে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তার ফোন থেকে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন পড়ে শোনান, যেখানে বলা হয়েছে রাশিয়ার স্যাটেলাইটগুলো মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি, দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি এবং উপসাগরজুড়ে থাকা তেল কূপগুলোর ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল। জেলেনস্কি ইঙ্গিত দেন, এই তথ্য ইরানের হামলায় সহায়তার জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট যেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের লড়াইয়ের সক্ষমতাকে প্রভাবিত না করে, সে জন্য তিনি কাজ করছেন। বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর কাছে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। এই অভিযোগ রাশিয়ার গোয়েন্দা কার্যক্রম ও উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
গ্রিসের উপকূলে ছয় দিন ভেসে থাকার পর অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি। গ্রিসের কোস্টগার্ড জানায়, নৌকাটি ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তবরুক বন্দর থেকে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করে, যাদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের এবং একজন চাদের নাগরিক। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশু ছিল, এবং আহত দুজনকে ক্রিট দ্বীপের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় জানা গেছে—তারা সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার বাসিন্দা। কোস্টগার্ডের ধারণা, খারাপ আবহাওয়া ও খাদ্য-পানির অভাবই মৃত্যুর প্রধান কারণ। নৌকাটি দিক হারিয়ে ছয় দিন ধরে সাগরে ভেসে ছিল এবং শেষ পর্যন্ত ক্রিটের দক্ষিণে ইয়েরাপেত্রা শহর থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে শনাক্ত হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দক্ষিণ সুদানের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৪১ হাজার ৬৯৬ জন অভিবাসী সমুদ্রপথে গ্রিসে পৌঁছেছেন, যা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পথের বাস্তবতা তুলে ধরে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।