Web Analytics
logo
নোটিশঃ একনজরের সবগুলো মডিউল এখনো একটিভেট না হওয়াতে শুধুমাত্র নিউজগুলো দেখাচ্ছে ফিডে। সবগুলো মডিউল একটিভ করার পর পুরো প্লাটফর্মের সকল একটিভিটিস/আপডেট এখানে ফিড হিসেবে দেখাবে। আমরা আসছি, অনেক কিছু নিয়ে। অপেক্ষায় থাকুন!

মধ্যপ্রাচ্যে বৈরিতা বন্ধের সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। শনিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেন। তবে সোমবার তিনি এই সময়সীমা পাঁচ দিনের জন্য বাড়িয়ে বলেন, ইরানের কাছে আরও একটি সুযোগ রয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, দুই দেশ মধ্যপ্রাচ্যে ‘বৈরিতার সম্পূর্ণ ও সার্বিক সমাধান’ নিয়ে আলোচনা করেছে। অন্যদিকে, ইরানের সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি এবং সামাজিক মাধ্যমে লেখেন যে ‘ভুয়া খবর’ ব্যবহার করে আর্থিক ও তেলের বাজার প্রভাবিত করা হচ্ছে। তবে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রস্তাব পাওয়া গেছে এবং তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সিবিএস জানায়, এটি আলোচনার সম্ভাব্য পূর্বপ্রস্তুতি মাত্র, নিশ্চিত কোনো আলোচনা নয়। হোয়াইট হাউস সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বৈঠক সংক্রান্ত জল্পনা চূড়ান্ত নয়।

Card image

সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনায় এসব হামলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে হামলাকে ‘মহিমান্বিত’ করা বা জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক মিডল ইস্ট পলিসি কাউন্সিলের ফেলো সুলতান আল-আমের বলেন, এই দমন-পীড়নের পেছনে দুটি কারণ রয়েছে—ইরানের গোয়েন্দারা এসব ভিডিও ব্যবহার করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত করতে পারে এবং উপসাগরীয় শহরগুলোর নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভাবমূর্তি রক্ষা করা। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের কাছে নিজেদের আকর্ষণীয় হিসেবে তুলে ধরতে চায়। আমিরাতের জাতীয় গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষের প্রধান আবদুল্লাহ আল-হামেদ সতর্ক করে বলেন, একটি ছবি আতঙ্ক ছড়াতে পারে এবং ভুল তথ্য সমাজকে অস্থির করতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রও নিজ দেশের সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।

Card image

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে সামান্য বৃষ্টিতে ফসলরক্ষা বাঁধে ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে, এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতি বছর আগাম বন্যা থেকে বোরো ফসল রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কাবিটা প্রকল্পের আওতায় এসব বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করে। এ বছর কিছুটা বিলম্বে কাজ শুরু হয় এবং এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দিয়ে পিআইসি কমিটি গঠন করায় কাজের মান নষ্ট হয়েছে। খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের চৌতারা হাওর ও পিআই নদীর বাঁধে ধস ও ফাটল দেখা গেছে। কিছু প্রকল্পে নামমাত্র মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে এবং নির্ধারিত সময়েও বস্তা ও বাঁশ ফেলার কাজ শেষ হয়নি। পাউবো কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসন দ্রুত মেরামত ও নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি তথ্যমতে, পাঁচ উপজেলায় ২০২টি পিআইসি কমিটি ১৩৬.৭৯৮ কিলোমিটার বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে, যা প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার হেক্টর জমি সুরক্ষায় যুক্ত। এসব প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩১ কোটি টাকা।

Card image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বিকেল ৩টায় সংসদ ভবনের অধিবেশনকক্ষে পুনরায় শুরু হচ্ছে। ঈদুল ফিতর ও অন্যান্য ছুটির কারণে ১৫ মার্চ অধিবেশন মুলতবি করা হয়েছিল। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করবেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানান, অধিবেশনের তৃতীয় দিনে মূলত রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা এতে অংশ নেবেন। এছাড়া মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। কার্যোপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হবে।

Card image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা প্রতিহত করতে ইরানকে উন্নতমানের ড্রোনের একটি চালান পাঠিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তেহরান রাশিয়াকে যে ড্রোন সরবরাহ করেছিল, এবার সেই প্রযুক্তিই মস্কো থেকে ইরানে ফিরে এসেছে। এই ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার নতুন দিক নির্দেশ করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার পর থেকে ইরান এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইল, উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। যদিও ইরানের নিজস্ব শাহেদ ড্রোন রয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়া এর নকশায় উন্নতি এনে উন্নত নেভিগেশন ক্ষমতা যুক্ত করেছে। ইউরোপীয় ও মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ড্রোন স্থানান্তর নিয়ে এ মাসে ‘খুব সক্রিয়’ আলোচনা হয়েছে। তবে চালানটি এককালীন নাকি ধারাবাহিক, কতগুলো ড্রোন পাঠানো হয়েছে বা এর কৌশলগত গুরুত্ব কতটা—এসব বিষয়ে কোনো পক্ষই স্পষ্ট তথ্য দেয়নি।

Card image

জোসেফ মাসাদের এক মতামত নিবন্ধে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো যারা নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে, তারা এখন নিরাপত্তার পরিবর্তে আরও বড় বিপদের মুখে পড়েছে। নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, আরবদের নয়, এবং ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা বাড়াতে আরব দেশগুলোকে উসকানি দিচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি কোম্পানিগুলো এই সংঘাত থেকে বিপুল মুনাফা অর্জন করছে, যা পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ রক্ষা করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেবল ওমান ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে, অন্য আরব সরকারগুলো নীরব থেকেছে। ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যা আরব দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করেছে। লেখকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরব দেশগুলোকে আরও দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। নিবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরব রাষ্ট্রদূতদের বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বই তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রকৃত হুমকি এবং এই নির্ভরতা অব্যাহত থাকলে ক্ষতি আরও বাড়বে।

Card image

২০২৬ সালের ২৯ মার্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান আগ্রাসনের ফলে বৈশ্বিক সার সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিপুল পরিমাণ সার হরমুজ প্রণালিতে আটকে আছে। ভারত, আলজেরিয়া ও স্লোভাকিয়ার কারখানাগুলো প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমিয়েছে বা বন্ধ করেছে। চীন সার রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার গমচাষিরা উৎপাদন কমিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা ও সয়াবিনচাষিরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ভর্তুকি চেয়েছেন। যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে। সার সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দাম বেড়ে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, যা রাশিয়ার পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ সার উৎপাদক অঞ্চল, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে এক-তৃতীয়াংশ সার সরবরাহ করে। ইনডিপেনডেন্ট কমোডিটি ইন্টিলিজেন্স সার্ভিসের বিশেষজ্ঞ দিপিকা থাপলিয়াল সতর্ক করেছেন, ঘাটতির কারণে সার ও খাদ্যের দাম বাড়ছে এবং কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো খাদ্যস্বল্পতার মুখে পড়তে পারে। সংস্থার মহাপরিচালক এনগজি ওকোনজো-ইওয়ালা বলেছেন, সংঘর্ষ জ্বালানি, সার ও খাদ্য বাণিজ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

Card image

নতুন আইপিও বিধিমালা কার্যকর হলেও বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা আপাতত নেই। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রায় দুই বছর ধরে চলমান আইপিও খরা আরও এক বছর স্থায়ী হতে পারে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, আইপিও আবেদনের জন্য ১২০ দিনের বেশি পুরোনো নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য নয় এবং অর্ধবার্ষিক বা প্রান্তিক প্রতিবেদন দিয়ে আবেদন করা যাবে না। ফলে ৩০ জুনে হিসাব বছর শেষ হওয়া কোম্পানিগুলোরই আবেদন করার সুযোগ থাকলেও অনুমোদন পেতে এক থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে। ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক দুরবস্থা এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর অনাগ্রহের কারণে নতুন তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা কম। সরকারি মালিকানাধীন বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার নির্দেশনা কার্যকর না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অবস্থায় ২০২৬ সালেও নতুন কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নতুন বিধিমালা ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। এতে স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হলেও দ্রুত অনুমোদনের পরও চলতি বছরে নতুন তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা খুবই কম।

Card image

ড. ইউসুফ জারিফ ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ প্রকাশিত এক নিবন্ধে বিশ্লেষণ করেছেন, কীভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বয়ান মৌলবাদ থেকে উগ্রবাদে রূপান্তরিত হয়েছে। তাঁর মতে, স্বাধীনতার পর থেকেই পাশ্চাত্যপ্রভাবিত সেক্যুলার বুদ্ধিজীবী ও এলিট গোষ্ঠী এমন রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করেছে, যা ইসলামি মূল্যবোধ ও জাতীয় পরিচয়কে প্রান্তিক করেছে। বামপন্থি ও ব্যবসায়ী শ্রেণির সমন্বয়ে গঠিত এলিট অ্যালায়েন্স, এনজিও ও সিভিল সোসাইটির সহায়তায় পশ্চিমা অর্থায়নে মানবাধিকার ও নারী ক্ষমতায়নের নামে ইসলামবিদ্বেষী রাজনীতি চালিয়ে গেছে। তিনি তিনটি পর্যায় চিহ্নিত করেছেন—আশির দশকের মৌলবাদবিরোধী আন্দোলন, ২০০১ সালের পর জঙ্গিবাদবিরোধী রাজনীতি, এবং ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশপন্থি আন্দোলনকে উগ্রবাদ হিসেবে উপস্থাপন। লেখকের মতে, এসব বয়ান জাতীয়তাবাদী ও ধর্মনির্ভর রাজনীতিকে দমন করে এলিট ও বিদেশি প্রভাবকে শক্তিশালী করেছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবকে তিনি এই আধিপত্যের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ হিসেবে দেখেছেন। ড. জারিফ সতর্ক করেছেন, ইনসাফ ও মর্যাদাভিত্তিক সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ না ঘটলে বাংলাদেশ আবারও বিভাজন ও এলিট নিয়ন্ত্রণের চক্রে পড়তে পারে।

Card image

ইরানের বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের হাফতকেলে ১০ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার একটি পানি সরবরাহ কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করা হয়। শনিবার রাতে ইসরাইলি ও মার্কিন যুদ্ধবিমান দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালায়। তাবরিজ, শিরাজ ও হরমোজগানেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানায়, ডেপুটি গভর্নর ভালিওল্লাহ হায়াতি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি মোহাম্মদ ভাল বলেন, ইরান সাধারণত এ ধরনের হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হানে, যা এই অঞ্চলের মানুষের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাল্টা হামলা চালাবে। তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়।

Card image

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ সংকটের কারণে গত আড়াই মাসে ৬২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ শিশু আইসিইউ বেড না পেয়ে এবং ৯ শিশু ভর্তি হওয়ার পর মারা যায়। মৃতদের অধিকাংশই নিউমোনিয়া ও হামে আক্রান্ত ছিল। চিকিৎসকদের মতে, এসব রোগ জটিল হলে আইসিইউ অপরিহার্য। কিন্তু হাসপাতালের ১২ শয্যার সাধারণ আইসিইউতে শিশুদের জন্য বরাদ্দ বেড খুবই সীমিত। শিশু ওয়ার্ডে চরম ভিড়ের কারণে এক বেডে দুই-তিনজন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, অনেকে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে। প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০০ শয্যার রাজশাহী শিশু হাসপাতাল তিন বছর ধরে চালু হয়নি। স্থানীয় সমাজকর্মী ও অভিভাবকরা এ অব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জনবল ও সরঞ্জামের ঘাটতির কথা স্বীকার করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হামের সংক্রমণ বেড়েছে এবং দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৫০ শয্যার নতুন আইসিইউ কমপ্লেক্স চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে।

Card image

২০২৬ সালের ২৯ মার্চ প্রকাশিত মো. মাহমুদুল হাসানের একটি প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের কারণ ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা হয়েছে। লেখক জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা সীমিত করার অযৌক্তিক নীতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে এবং সরকার তা দমন করতে নৃশংস অভিযান চালায়। এতে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী নিহত ও বহুজন আহত বা আটক হয়। লেখক এই ঘটনাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রবন্ধে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচনী কারচুপি, দুর্নীতি ও দমননীতি চলমান ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণ, নির্যাতন ও ভয়ভীতি শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। এসব অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা একটি ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আন্দোলনে নামে। লেখক প্রবন্ধের শেষে আহ্বান জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারে বিশ্বাসী নাগরিকদের উচিত জুলাই বিপ্লবের চেতনা লালন করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া।

Card image

গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর শাসক দলের নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা ঘোষণা দেন যে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না। জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী পরিষদের কাঠামো ও ক্ষমতা নির্ধারিত থাকলেও এই অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সমালোচকেরা বলছেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে এমন আদেশ জারির ক্ষমতা দেয় না এবং পৃথক নির্বাচন না হওয়ায় সংসদ সদস্যদের পরিষদে অন্তর্ভুক্তি বৈধ নয়। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের রাজনৈতিক উত্থান ছিল জনগণের সরাসরি সার্বভৌম ক্ষমতার প্রকাশ, যা রাষ্ট্রের কাঠামো পুনর্গঠনের দাবি তুলেছিল। লেখকের মতে, পরিষদের বৈধতা লিখিত সংবিধানের ধারায় নয়, বরং জনগণের সেই সার্বভৌম ম্যান্ডেটেই নিহিত। জুলাই সনদে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো ছিল মৌলিক, যা প্রচলিত সংশোধন প্রক্রিয়ায় টেকসই নয় এবং ‘মৌলিক কাঠামো তত্ত্ব’-এর সীমাবদ্ধতায় পড়বে। লেখক উপসংহারে বলেন, নির্বাচন ও গণভোটের দ্বৈত ম্যান্ডেট সংবিধান সংস্কার পরিষদকে বৈধতা দিয়েছে, যা জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলন।

Card image

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট জাতীয় সংসদে দুটি ইস্যুতে জোরালো অবস্থান নিতে যাচ্ছে—জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আজকের অধিবেশনে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা এ দুই বিষয় নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা তুলতে পারেন বলে জানা গেছে। অধিবেশনের আগে বৈঠকও নির্ধারিত হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে জামায়াত ও এর মিত্ররা। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলনে নামতে তারা বাধ্য হবেন। অন্যদিকে, সরকার ১১ সিটি করপোরেশন ও ৪২ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় বিরোধী দল মনে করছে, এটি স্থানীয় নির্বাচন বিলম্বের কৌশল। জামায়াতের নেতারা বলছেন, এসব দলীয় নিয়োগ গণতান্ত্রিক ধারা ভঙ্গ করেছে। ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে, আর জামায়াত ইতোমধ্যে প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ জোটের অন্যান্য দলও সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করে দ্রুত নির্বাচন ও সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।

Card image

ইরান দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তাদের চালানো এক হামলায় ইউক্রেনের একটি ড্রোন বিধ্বংসী অস্ত্রের ডিপো ধ্বংস হয়েছে। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র জানান, হামলাটি দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন সামরিক আস্তানায় চালানো হয়, যেখানে ইউক্রেনের ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা সংরক্ষিত ছিল। মুখপাত্রের দাবি, সেখানে উপস্থিত ২১ জন ইউক্রেনীয় ড্রোন বিশেষজ্ঞ নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জর্জি তিখিম এই দাবি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ইরান প্রায়ই এমন ভুয়া তথ্য ছড়ায় এবং এ বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের কোনো পার্থক্য নেই। ইরানের এই বক্তব্য তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রকাশ করেছে। ঘটনাটি ইরান, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে, যদিও হামলা বা হতাহতের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

Card image

আরো ফিড দেখতে লগইন করুন

সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।