অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানিদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান আক্রমণাত্মক বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন। এক্স-এ প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি বলেন, ট্রাম্পের মৌখিক আক্রমণ ‘‘তীব্রতা ও সহিংসতায় বাড়ছে’’ এবং এটি শুধু কথার কথা নয়, বরং বাস্তবে বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তিনি সতর্ক করেন যে এই ধরনের বক্তব্য প্রায়ই বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর ওপর লক্ষ্যবস্তুভিত্তিক, নির্বিচার বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হামলার দিকে নিয়ে যায়। ক্যালামার্ড প্রশ্ন তোলেন, অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ পরিস্থিতিতে মানুষ কীভাবে নিজেদের রক্ষা করবে। তিনি আরও বলেন, এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার শিকার হচ্ছে ইরান, লেবানন, ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জনগণ। আল জাজিরা সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যামনেস্টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও না বাড়ে।
ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে রাখা অবশিষ্ট স্বর্ণ বিক্রি সম্পন্ন করেছে, যা দেশের স্বর্ণ মজুদ দেশে ফিরিয়ে আনা ও আধুনিক মানে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংক দ্য ফ্রান্স, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে ১২৯ টন স্বর্ণ নবায়ন করে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার) আয় করেছে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, এই পদক্ষেপটি রাজনৈতিক নয়, বরং একটি বাস্তব আর্থিক সিদ্ধান্ত। প্যারিসে স্বর্ণ মজুদ একত্রিত করে এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বার গ্রহণের মাধ্যমে ফ্রান্স তার স্বর্ণ ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও সহজ করেছে। মোট ২,৪৩৭ টন স্বর্ণের মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশ বিক্রি করা হয়েছিল, যা উচ্চ স্বর্ণমূল্যের সময়ে সম্পন্ন হওয়ায় উল্লেখযোগ্য মুনাফা এনে দেয়। পুরনো বার পরিবহন না করে ব্যাংকটি ইউরোপে নতুন মানসম্পন্ন স্বর্ণ ক্রয় করে, ফলে মোট মজুদের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ব্যাংক দ্য ফ্রান্স ১১ বিলিয়ন ইউরো বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে এবং ২০২৬ সালের লেনদেনসহ মোট লাভ প্রায় ১৩ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। ব্যাংকটি ২০২৮ সালের মধ্যে আরও ১৩৪ টন স্বর্ণ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, যদি তেহরান রাত ৮টার মধ্যে চুক্তিতে না আসে, তবে “একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা আজ রাতে ধ্বংস হবে।” হোয়াইট হাউসের র্যাপিড রেসপন্স অ্যাকাউন্ট সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ জানায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের বক্তব্যে পারমাণবিক বিকল্পের কোনো ইঙ্গিত নেই। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, কেবল প্রেসিডেন্টই জানেন, ইরান সময়সীমার মধ্যে সাড়া না দিলে তিনি কী করবেন। এই বিতর্কের সূত্রপাত ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যম পোস্ট থেকে, যেখানে তিনি ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে বলেন এবং ৮টার সময়সীমা নির্ধারণ করেন। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ইরানের খার্গ দ্বীপে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যা দেশটির তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেন, এই হামলা কোনো কৌশলগত পরিবর্তন নয়, বরং প্রেসিডেন্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় চাপের কৌশল ব্যবহার করছেন এবং ইরানের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া আশা করছেন। হোয়াইট হাউসের এই স্পষ্ট অস্বীকৃতি পারমাণবিক উত্তেজনা নিয়ে জল্পনা থামাতে এবং তেহরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে লক্ষ্য করে।
ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা শহরে ইরান সীমান্তের কাছে ভয়াবহ মিসাইল হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মিসাইলটি বসরার আল জুবাইর এলাকায় আঘাত হানে, যেখানে একটি বসতবাড়ি, একটি কৃষি গুদাম ও একটি বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণে দুটি পিকআপ ট্রাকও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মিসাইলটি কুয়েতের দিক থেকে ছোড়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি মার্কিন মিসাইল হামলা হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কোনো দেশ এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, ফলে হামলার প্রকৃত উৎস ও উদ্দেশ্য অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
ক্যাথলিক চার্চের ইতিহাসে প্রথম মার্কিন পোপ লিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী হুমকিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তিনি বলেন, ট্রাম্পের সেই পোস্টে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি না খোলে তবে একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে—এ বক্তব্য ইরানের সকল মানুষের বিরুদ্ধে হুমকি। ইরান যুদ্ধের স্পষ্টভাষী সমালোচক হিসেবে পরিচিত পোপ লিও বিশ্বজুড়ে মানুষকে তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে আহ্বান জানান। তার এই মন্তব্য ও আহ্বান ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আসে। এর আগে ইউএস কনফারেন্স অফ ক্যাথলিক বিশপস এক বিবৃতিতে ট্রাম্পকে যুদ্ধের কিনারা থেকে সরে এসে শান্তির স্বার্থে ন্যায্য সমাধানের জন্য আলোচনায় বসার আহ্বান জানায়, সূত্র আল জাজিরা।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরান চুক্তির সময়সীমা আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানকে ওই সময় হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার অনুরোধও জানান। শাহবাজ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরালোভাবে এগোচ্ছে এবং শিগগিরই এর ইতিবাচক ফল আসতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, সময়সীমা বাড়ালে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে সফল হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। শাহবাজ আরও আহ্বান জানান, যুদ্ধরত সব পক্ষ যেন আগামী দুই সপ্তাহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতি পালন করে, যাতে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি টানা সম্ভব হয়। এই আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইরাক-ইরান সীমান্তে মিসাইল হামলায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে সাম্প্রতিক হুমকি ও সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা চলছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পারমাণবিক যাচাইকরণ ও নিরাপত্তা নীতি সমন্বয়ের সাবেক প্রধান তারিক রাউল সতর্ক করেছেন যে, ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরাসরি আঘাত হানলে তা চেরনোবিল বা হিরোশিমার মতো ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এসব কেন্দ্র আঘাত সহ্য করার জন্য নকশা করা হলেও বাস্তবে কী ঘটবে তা অনিশ্চিত। রাউল বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল দূষিত হলে তা বছরের পর বছর স্থায়ী হতে পারে। এতে লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলো অচল হয়ে যাবে, মাছের জোগান বন্ধ হবে এবং শত শত কিলোমিটার এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। তিনি আরও জানান, তেজস্ক্রিয়তার সংস্পর্শে আসা মানুষের শরীরে ফোসকা, জ্ঞান হারানো, রক্তক্ষরণ ও ক্যান্সার হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ, কারণ একটি পথভ্রষ্ট ড্রোনও রিয়্যাক্টরে বিধ্বস্ত হতে পারে।
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য অপসারিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। ৬ এপ্রিল রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনি সিসিটিভি প্রকল্পে স্বাক্ষর না করায় ইউএনও তাকে হুমকি দেন এবং পরে তাকে অপসারণের সুপারিশ করেন। তিনি জানান, সুপ্রিমকোর্টে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায়ও ইউএনও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তাব দেন, যার ভিত্তিতে ৩ এপ্রিল তাকে অপসারণ করা হয়। কবির আহমদের অভিযোগ, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের জন্য নির্বাচন কমিশন ৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়, কিন্তু প্রকল্পটি গোপন রেখে ইউএনও তাকে ইউনিয়ন কর তহবিল থেকে ৬ লাখ ৫ হাজার টাকার প্রকল্প প্রস্তাব দাখিলের নির্দেশ দেন। তিনি আরও দাবি করেন, অন্যান্য ইউনিয়ন থেকেও প্রায় ৩৮ লাখ টাকার প্রকল্পে স্বাক্ষর আদায় করা হয়। তিনি ঘটনাটিকে প্রতিহিংসামূলক আখ্যা দিয়ে প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত দাবি করেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সদ্য সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নতুন গঠিত এডহক কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদ ভেঙে এডহক কমিটি ঘোষণার পরপরই তিনি এই অবস্থান জানান। এনএসসির সংবাদ সম্মেলনের পর অফিস ত্যাগ করে সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। বিজ্ঞপ্তিতে বুলবুল পাঁচটি পয়েন্টে এডহক কমিটিকে অবৈধ প্রমাণের যুক্তি দেন। তিনি বলেন, বিসিবির নির্বাচন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হয়েছে, তাই অনিয়মের সুযোগ ছিল না। নির্বাচনের পর এনএসসির তদন্ত বা এডহক কমিটি গঠনের কোনো এখতিয়ার নেই বলেও দাবি করেন তিনি। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন বুলবুল। তিনি এই ঘটনাকে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ জানান। বুলবুল আরও জানান, বিষয়টি হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকায় রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি বিসিবি সভাপতি হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে ঘিরে মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপি নেতাকর্মীরা এক বিশাল আনন্দ মিছিল ও পথসভা করেন। উত্তর বাজার থেকে শুরু হয়ে পৌরসভা চত্বরে শেষ হওয়া এই কর্মসূচিতে নয়টি ইউনিয়ন ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের হাজারও নেতাকর্মী অংশ নেন। পথসভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর মদদে দুর্নীতি, জমি দখল ও মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। তারা এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অন্যায় অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। আহ্বায়ক ডা. কমল কদর জানান, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে এবং আসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে কর্মসংস্থান, খেলাধুলা ও অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অন্যান্য নেতারা অতীতের নেতৃত্ব কাঠামোর সমালোচনা করে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ৫ এপ্রিল নবগঠিত কমিটিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে এক সংবর্ধনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধ্যাপক মাইকেল বেকার বলেছেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকি নৈতিকভাবে নিন্দনীয় এবং আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য। বেকার জানান, ট্রাম্পের নির্বিচার ধ্বংসের ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য ব্যাপক মাত্রার যুদ্ধাপরাধের সম্ভাবনা তৈরি করে। তিনি আরও বলেন, ইরানের বেসামরিক জনগণের ওপর এমন হামলা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বেকার উল্লেখ করেন, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন “আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে”, যদিও তিনি দাবি করেছেন যে তিনি তা ঘটতে দিতে চান না। বেকারের মতে, ভাষাটি গণহত্যামূলক কি না তা গৌণ, কারণ এটি নিজেই বেআইনি আগ্রাসনের হুমকি। তিনি রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদের এ ধরনের লজ্জাজনক মন্তব্যের নিঃশর্ত নিন্দা জানাতে আহ্বান জানান। আল জাজিরার বরাতে প্রকাশিত এই মন্তব্য আসে ইরাক-ইরান সীমান্তে প্রাণঘাতী মিসাইল হামলার পর, যখন ট্রাম্পের ইরানবিরোধী বক্তব্য আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে।
ইরানের ইসফাহান প্রদেশে মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষের নতুন ছবি প্রকাশের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শাহরেজা শহরের কাছে পারজান গ্রামের বাসিন্দারা জানান, রোববার গভীর রাতে আকাশে বিমান ও হেলিকপ্টারের শব্দ শোনা যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শুরু হয়। সোমবার বিকেলে ইরানের সেনাবাহিনী ও পৌরসভার কর্মীরা ঘটনাস্থলে দুটি মার্কিন সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান ও অন্তত দুটি হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করতে দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এটি ছিল ইরানে ভূপাতিত একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দুই পাইলটকে উদ্ধারের জটিল অভিযান। তাদের দাবি, উড্ডয়নে ব্যর্থ হওয়ায় হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমানগুলো নিজেরাই ধ্বংস করে দেয়। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, তাদের হামলায় দুটি সি-১৩০ বিমান ও দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে। ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাঘারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই তথাকথিত উদ্ধার অভিযানটি ছিল প্রতারণামূলক পরিকল্পনা, যা ইরানের বাহিনী সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করে দেয়। অভিযানে এক ইরানি কর্মকর্তা নিহত হন এবং ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য সাত ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তেহরান যদি তা মানতে ব্যর্থ হয়, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা একমাত্র তিনিই জানেন। আল জাজিরাকে তিনি আরও জানান, ইরান সরকারকে ইস্টার্ন টাইম রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য। এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত নির্দেশ করে। হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই একমাত্র জানেন পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে। পরিস্থিতি বর্তমানে অনিশ্চিত এবং উভয় পক্ষের অবস্থান কঠোর রয়ে গেছে। সূত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের উপররাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের হুমকিকে গুরুত্ব দেননি, চীন ও রাশিয়া হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে জাতিসংঘ প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের খার্গ দ্বীপে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতা ঘটেছে।
ইরানের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিতে ইরান ভীত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ‘আজ রাতেই ইরান ধ্বংস করে দেওয়া হবে’ বলে হুমকি দেওয়ার পর তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। আরেফ বলেন, হাজার বছরের ইতিহাসে ইরানের সভ্যতা বারবার শত্রুদের ‘ভ্রান্ত ধারণা’ অতিক্রম করেছে এবং দেশটি এ ধরনের হুমকিতে ভয় পায় না। তিনি আরও বলেন, শত্রুর আগ্রাসনের জবাব ইরান দৃঢ় অবস্থান ও জাতীয় শক্তির ওপর নির্ভর করেই দেবে। এই বক্তব্য ট্রাম্পের অনলাইন হুমকির পর তেহরানের দৃঢ় অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের চলমান উত্তেজনাকেও ইঙ্গিত করে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে চীন ও রাশিয়ার ভেটো, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের খার্গ দ্বীপে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতা এবং ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে তরুণদের মানববন্ধনের আহ্বান।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব চীন ও রাশিয়ার ভেটোর কারণে পাস হয়নি। ভোটাভুটিতে ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও চীন ও রাশিয়া বিপক্ষে ভোট দেয় এবং আরও দুই দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। প্রস্তাবটি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো জরুরি ছিল। কিন্তু বড় শক্তিগুলোর মতপার্থক্যের কারণে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, ফলে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।