বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজের প্রথমবর্ষের ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী গোলাম নাফিজ ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর ফার্মগেটে আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মহাখালীর বাসা থেকে সকাল ১০টার দিকে বের হয়ে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন এবং পথে কেনা লাল-সবুজ পতাকা মাথায় বাঁধেন। তার মা নাজমা আক্তারের সঙ্গে শেষ কথা হয় দুপুর ৩টায়; তখন তিনি নিজেকে নিরাপদ বলে জানান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ জুলাই মহাখালীতে তার পায়ে রাবার বুলেট লাগলেও তিনি আন্দোলন চালিয়ে যান। ফার্মগেটে পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলায় আন্দোলনকারীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে নাফিজ গুলিবিদ্ধ হন। রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ তাকে আল-রাজী হাসপাতাল হয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিকশার ছবিতে তাকে শনাক্ত করে বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ করেন; পরে মামা আবুল হাশেম সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে তার মরদেহ শনাক্ত করেন।
লাশ বাড়িতে নেওয়া ও দাফনের সময় পরিবার পুলিশি হয়রানি এবং বাধার অভিযোগ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে নাফিজকে দাফন করা হয়। ফার্মগেটে নাফিজসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যার মামলায় ২২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। মামলায় সাবেক এডিসি শচীন মৌলিক গ্রেপ্তার আছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।