নড়াইলে চিত্রা ও নবগঙ্গা নদীতে ব্যাপক পাট জাগ দেওয়ায় পানিদূষণ মারাত্মক আকার নিয়েছে। ১৬ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পচা পাটের কারণে নদীর স্বচ্ছ পানি কালো ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে নড়াইল শহরের ড্রেনেজ এবং নদীতীরবর্তী আবাসনগুলোর পয়ঃব্যবস্থা সরাসরি চিত্রা নদীর সঙ্গে যুক্ত থাকায় দূষণ আরও বেড়েছে। দুর্গন্ধে নদীসংলগ্ন এলাকার বাতাসও ভারী হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে বিলসংলগ্ন ডোবা, নালা, খাল, পুকুর, হাওর ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি থাকায় সেখানে পাট জাগ দেওয়া হতো। এসব পানির উৎস হারিয়ে যাওয়ায় চাষিরা চিত্রা, নবগঙ্গা ও অন্য নদী-খালে পাট পচাচ্ছেন। চাষিরা বলছেন, পর্যাপ্ত বিকল্প জলাধার না থাকায় দূষণের বিষয়টি জেনেও তারা নদীতে যেতে বাধ্য হন। নদীতে পচানো পাটের মান তুলনামূলক ভালো হওয়াও তাদের উৎসাহিত করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় চার মাস দূষণ নদীর মিষ্টি পানিকে গ্রাস করে এবং অক্সিজেনের স্বল্পতায় মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি শাহ আলম হারিয়ে যাওয়া জলাধার পুনরুদ্ধার ও আধুনিক পাট পচানো পদ্ধতিতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসক ড. আব্দুল ছালাম সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর বিকল্প পন্থা উদ্ভাবনের কথা বলেছেন।