চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন ৪ আগস্ট মাগুরায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার রায়নগর গ্রামের বাসিন্দা ফরহাদ সেদিন কলেজের পাঁচ-সাতজন বন্ধুর সঙ্গে ইজিবাইকে করে আন্দোলনে যান। ঢাকা-মাগুরা মহাসড়কের পারনান্দুয়ালী ব্রিজ এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে তার মাথায় গুলি লাগে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং ওই রাতেই রায়নগর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেদিন সকালে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছিলেন ফরহাদ। তার বড় ভাই গোলাম কিবরিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বলেছিলেন, ‘চলেন ভাই, শহীদ হয়ে আসি। এমন সময় জীবনে আর পাওয়া যাবে না।’ গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার শেষ অনুরোধ ছিল পকেটে থাকা ফোন ও তার লাশ মায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার। ভাই বলেন, মায়ের ফোনের পরও ফরহাদ বাড়ি ফেরেননি; মৃত্যুসংবাদে মা টানা দুই দিন ভেঙে পড়েছিলেন।
২০২৪ সালের ২১ আগস্ট মাগুরা সদর থানায় করা হত্যা মামলায় সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ ৬৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। প্রায় দুই বছরেও মামলার চার্জশিট দাখিল হয়নি। পুলিশ বলছে, প্রকৃত আসামি শনাক্ত এবং নির্দোষ কাউকে হয়রানি না করতে তদন্ত চলমান রয়েছে। পরিবার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে।