ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে। গত মাসে একাধিক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জনরোষের মুখে শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ আদালত গঠন এবং পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের দায়িত্ব প্রযুক্তি উদ্যোক্তা নন্দন নিলেকানিকে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যাটি কেবল পরীক্ষা সংস্কারের নয়; শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট অব ওয়ার্কিং ইন্ডিয়া ২০২৬ প্রতিবেদনে তরুণদের বেকারত্ব অন্য বয়সীদের তুলনায় প্রায় চার গুণ বলা হয়েছে। ২০২৩ সালে ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী স্নাতকদের ৬৭ শতাংশ কর্মসংস্থানে ছিলেন না। ২০০৪-০৫ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত বছরে গড়ে প্রায় ৫০ লাখ নতুন স্নাতক যুক্ত হলেও চাকরি পেয়েছেন ২৮ লাখ।
অর্থনীতিবিদ সন্তোষ মেহরোত্রা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প পুনরুজ্জীবিত করা এবং উৎপাদনকেন্দ্রিক শিল্পনীতি নেওয়ার কথা বলেছেন। ২০১৫ সালে জিডিপিতে উৎপাদনশিল্পের ১৭ শতাংশ অবদান বর্তমানে ১৪ শতাংশে নেমেছে। এআইয়ের কারণে কৃষির বাইরের ৮ থেকে ১২ শতাংশ চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে গোল্ডম্যান স্যাকসের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।