বিএনপি সরকার ক্ষমতা নেওয়ার আড়াই মাস পর প্রথমবারের মতো চীন সফরে গেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিন দিনের এই সফরে তিস্তা নদী ইস্যুটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন অব তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’ বাস্তবায়নে চীনের সহায়তা পুনরায় সক্রিয় করার লক্ষ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারতের আপত্তির কারণে প্রকল্পটি এতদিন স্থগিত ছিল।
তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১১ সালের একটি চুক্তি চূড়ান্ত হলেও তা কার্যকর হয়নি। ফলে উত্তরাঞ্চলে প্রায় প্রতিবছর খরা ও বন্যার সমস্যা দেখা দেয়। প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনায় একটি বহুমুখী ব্যারেজ, ১০২ কিলোমিটার নদীখনন, ২০৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ভূমি পুনরুদ্ধার, পর্যটন ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। চীন প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ দেখালেও পরবর্তীতে ভারতও এতে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও ভারতের আগ্রহের পেছনে কৌশলগত কারণ রয়েছে, বিশেষ করে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের সঙ্গে প্রকল্পটির সম্পর্ক। তবে স্থানীয় সংগঠনগুলো বলছে, প্রকল্পের পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে ন্যায্য পানি বণ্টন নিশ্চিত করাও জরুরি।