আকস্মিক বন্যা হলো হঠাৎ সৃষ্ট পানির প্রবল স্রোত, যা গিরিখাত, উপত্যকা ও অন্যান্য নিচু-সংকীর্ণ এলাকা দিয়ে দ্রুত প্রবাহিত হয়। নেপালে সাম্প্রতিক এ ধরনের বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আট শতাধিক মানুষ এখনো নিখোঁজ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের বৃষ্টিতে ধীরে বাড়া নদীবন্যার বিপরীতে, মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টার বৃষ্টিতেই শুকনো নদী কূল ছাপিয়ে যেতে পারে।
বজ্রঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টি এ বন্যার প্রধান কারণ; দ্রুত তুষার ও বরফ গলা, বাঁধ ভাঙা এবং ভূমিধসও ভূমিকা রাখতে পারে। খাড়া পাহাড়, শক্ত মাটি, পাথর, সড়ক ও ছাদের মতো পানি শোষণ না করা পৃষ্ঠ নিচু এলাকায় দ্রুত পানি নামিয়ে প্লাবন বাড়ায়। উষ্ণ বায়ু বেশি আর্দ্রতা ধারণ করতে পারে বলে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে, তবে নেপালের ঘটনায় জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা নিয়ে এখনই সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় হয়নি বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস সম্ভব হলেও সময় খুব সীমিত এবং দুর্গম পাহাড়ি অববাহিকায় তথ্যের ঘাটতি বড় বাধা। রাডার, স্যাটেলাইট ও স্বয়ংক্রিয় সেন্সর দিয়ে হ্রদের পানির স্তর ও বাঁধের অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়। তারা আন্তর্জাতিক তথ্যব্যবস্থা জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্যাটেলাইট নজরদারি এবং বিপদপ্রবণ স্থানে জনবসতি না গড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।