যশোরের রেলক্রসিংগুলোতে নিরাপত্তাহীনতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার তিনটি রেলপথে থাকা ১৭৭টি ক্রসিংয়ের মধ্যে ৯৯টি অবৈধ। বৈধ ৭৮টির ৩৪টিতে গেটম্যান নেই। ফলে পথচারী ও ছোট যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পার হতে হচ্ছে। জনবল সংকট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব নিয়ে মতবিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত রেললাইন পারাপারের সময় দুটি বড় দুর্ঘটনায় পাঁচজন হতাহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ২৬ সেপ্টেম্বর কৃষ্ণবাটি ক্রসিংয়ে বেনাপোল থেকে ঢাকাগামী রূপসী বাংলা ট্রেনের ধাক্কায় ইজিবাইকচালক আজিজুর রহমান ও যাত্রী এরশাদ আলী নিহত হন। এর আগে ১০ মে অভয়নগরের ভাঙাগেটে কয়লাবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে চালক মনোয়ার হোসেন নিহত এবং হেলপার রায়হান পঙ্গুত্ববরণ করেন।
রেলওয়ে জানিয়েছে, আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ক্রসিং বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নিয়মিত চিঠি দেওয়া হচ্ছে। দূরবর্তী ক্রসিংয়ে বিদ্যুৎ ও সোলার প্যানেলের আলো স্থাপনের কাজ চলছে। পরীক্ষামূলক মোবাইল ফোনভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে সব গেটে সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।