চীনের শানসি প্রদেশের রাজধানী শিয়ানের গ্রেট মসজিদ, বা হুয়াজুয়ে লেন মসজিদ, ইসলামি ও চীনা সভ্যতার ঐতিহাসিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রাচীন ছাংআন নগরী ও রেশমপথের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র শিয়ানে অবস্থিত মসজিদটির প্রচলিত প্রতিষ্ঠাকাল তাং রাজবংশের সময়ে ৭৪২ খ্রিষ্টাব্দ। ২০২৬ সালের হিসাবে ওই প্রতিষ্ঠাকাল ধরলে এর বয়স প্রায় ১ হাজার ২৮৪ বছর। আরব, পারস্য ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে শিয়ানের বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় যোগাযোগ বহু শতাব্দীর পুরোনো।
সূত্রে বলা হয়েছে, চীনে ইসলাম বিস্তারে সামরিক অভিযানের চেয়ে বাণিজ্য, অভিবাসন, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও সামাজিক সম্পর্কের ভূমিকা বেশি ছিল। ৬৫১ সালে তাং দরবারে আরব কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল পাঠানোর প্রাচীন নথির উল্লেখ রয়েছে, তবে তা দিয়ে ওই বছর প্রথম মুসলিম বসতি গড়ে ওঠার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা যায় না। সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের চীন সফরের প্রচলিত কাহিনিকেও গবেষকেরা ওই কূটনৈতিক যোগাযোগ থেকে পৃথক ঐতিহাসিক বিষয় হিসেবে দেখার কথা বলেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত গম্বুজ, মিনার ও খিলাননির্ভর নকশার বদলে মসজিদটিতে চীনা প্রাসাদ, উদ্যান ও ধর্মীয় স্থাপত্যের সঙ্গে ইসলামি পরিচয়ের সমন্বয় ঘটেছে। একাধিক প্রাঙ্গণ, বাগান, কাঠের স্থাপনা, আরবি ক্যালিগ্রাফি এবং প্যাগোডা আদলের মিনার এর বৈশিষ্ট্য। মিং ও ছিং আমলে বহুবার সংস্কার ও সম্প্রসারণের ফলে বর্তমান বিন্যাসে মূলত মিং যুগের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ১৯৫৬ সাল থেকে এটি সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃত।