বাংলাদেশ সরকার দেশের পানি সংকট মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়, যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। প্রথম ধাপে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, এ প্রকল্প নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন নেই। ব্যারাজের মাধ্যমে পদ্মা নদীতে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে।
এই সংরক্ষিত পানি দিয়ে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী পুনরুজ্জীবিত করা হবে। শুষ্ক মৌসুমে এসব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচের সুবিধা দেবে এবং ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সুন্দরবন অঞ্চলের লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা কমাতে সহায়তা করবে।
ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের নদীগুলোর প্রবাহ কমে যাওয়ায় এ প্রকল্পকে জাতীয় স্বার্থে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।