বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জের সুজানগরে ১৯৬৪ সালে আবিষ্কৃত একটি সংস্কৃত শিলালিপি বিক্রমপুর অঞ্চলে খিলজি-পূর্ব যুগের প্রাচীনতম ইসলামি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রমাণ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। বর্মণ রাজবংশের রাজা ভোজবর্মণের (প্রায় ১১৩৭–১১৪৫ খ্রিষ্টাব্দ) রাজত্বকালের এই শিলালিপিতে ‘আল্লাভট্টারকস্বামীজনসিতবিহার’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যা ‘আল্লাহ’র সংস্কৃত রূপ নির্দেশ করে। ঢাকার বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত এই শিলালিপি থেকে বোঝা যায়, ১২০৫ খ্রিষ্টাব্দে তুর্কি বিজয়ের অনেক আগে বিক্রমপুরে একটি মসজিদ ও মাদরাসাসদৃশ প্রতিষ্ঠান ছিল।
রাজা ভোজবর্মণ সপ্তম রাজত্ববর্ষে এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান অনুমোদন করেছিলেন, যা তার অধস্তন অভুদেবের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রিওসুকে ফুরুইসহ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই শিলালিপি বাণিজ্যের মাধ্যমে মুসলমানদের প্রাচীন বাংলায় আগমনের প্রমাণ দেয়। এটি বর্মণ শাসকদের ধর্মীয় সহনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদের প্রতিফলনও বহন করে।
এই আবিষ্কার দ্বাদশ শতাব্দীর বাংলার ধর্মীয় সহাবস্থান ও বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ঐতিহাসিক প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।