কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে এখন বোরো ধান কাটার ব্যস্ত সময় চলছে। অষ্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষক-কৃষানিরা সোনালি ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত থাকলেও বাজারদর কমে যাওয়ায় তাদের মুখে আনন্দের বদলে হতাশা। অতিবৃষ্টির জলাবদ্ধতা ও সেচ, সার, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় হাজারো কৃষক লোকসানের মুখে পড়েছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, এক মণ ধান বিক্রি করে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক ৭০০–৮০০ টাকায় ভেজা ধান বিক্রি করছেন, যেখানে উৎপাদন খরচই ১২০০ টাকার বেশি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে, যার লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন।
সরকার ২২ এপ্রিল প্রতি কেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা নির্ধারণ করলেও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে। তারা দাবি করছেন, সিন্ডিকেট দূর করে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে ধান কেনা নিশ্চিত করতে হবে, নইলে ক্ষুদ্র চাষিরা বিপুল লোকসানে পড়বেন।