পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীর রামমোহন রায় লাইব্রেরি, যা ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত, দীর্ঘ অবহেলায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। একসময় ৩০ হাজারের বেশি বই থাকা পাঠাগারটিতে এখন রয়েছে মাত্র প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ বই। পুরোনো ভবন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ব্রাহ্ম সমাজ মন্দিরের দ্বিতীয় তলার একটি ছোট কক্ষে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চলছে। নিয়মিত পাঠকও খুব কম, যদিও গবেষণা ও অ্যাসাইনমেন্টের প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা আসেন।
একসময় পাঠাগারটি জ্ঞানচর্চা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও সুফিয়া কামালসহ বহু গুণীর পদচারণে এটি মুখর ছিল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর ব্রাহ্ম সমাজ ভবনে সামরিক ক্যাম্প স্থাপনের সময়ে হাজার হাজার মূল্যবান বই ও নথি লুট হয়। হারানো সংগ্রহের মধ্যে দুর্লভ সংস্করণ, ধর্মীয় গ্রন্থ, বাংলা অনুবাদ ও সরকারি গেজেটও ছিল।
রাজউক, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ-সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে পুরোনো ভবন নিয়ে আইনি জটিলতায় সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ আটকে আছে। বাংলাদেশ ব্রাহ্ম সমাজের সাধারণ সম্পাদক রণবীর পাল বলেন, চলমান মামলার কারণে বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না এবং উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও হয়নি। ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পাঠাগারের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। নতুন ভবন নির্মাণের বৃহৎ পরিকল্পনা এখন নেই, তবে বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।