চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ তদন্ত করছে বাংলাদেশ পুলিশ। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১০-এর প্রাথমিক অনুসন্ধানে ইঙ্গিত মিলেছে, প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্তে তাঁদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এভাবে রাশিয়ায় পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। গুরুতর আহত ঝিনাইদহের ২১ বছর বয়সী রাজন হোসেন দূতাবাসের সহায়তায় আগস্টের শেষ দিকে দেশে ফেরেন।
রাজনের ভাষ্য, গত মে মাসে নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে চাকরির কথা বলে তাঁকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়; সেখানে পাসপোর্ট ও ফোন কেড়ে নিয়ে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণের পর তাঁকে সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, প্রথম দিনের ড্রোন হামলায় তাঁর দলের ১৭ জন নিহত হন, পরে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। আহত হওয়ার পর তিনি চার দিনে প্রায় চার কিলোমিটার হামাগুড়ি দিয়ে রুশ শিবিরে পৌঁছান।
তদন্তে জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপের নাম পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে সাড়ে আট লাখ টাকা করে নিয়ে ৩০ জনকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। জাবালে নূরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই সমন্বয়ক গ্রেপ্তার হয়েছেন। স্বজনেরা মরদেহ ফেরত চান; কর্মকর্তারা আগে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করলেও এখনো কোনো মরদেহ দেশে আনা যায়নি।