কাতারের সাবেক আমির ও ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ৭৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তাঁর ১৮ বছরের শাসনামলে কাতার একটি ছোট তেলনির্ভর দেশ থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি রপ্তানিকারক ও বিনিয়োগশক্তিতে পরিণত হয়। তাঁর নেতৃত্বে গ্যাস উত্তোলন ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনে ব্যাপক বিনিয়োগের ফলে কাতার ১৫ বছরেরও কম সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়।
১৯৯৫ সালে কাতারের জিডিপি ছিল প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৯৯ বিলিয়ন ডলারে। শেখ হামাদ ২০০৫ সালে কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি গঠন করেন, যা জ্বালানি খাতের উদ্বৃত্ত অর্থ বৈশ্বিক বিনিয়োগে ব্যবহার করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে; কাতার ফাউন্ডেশন, হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও লুসাইল সিটির মতো প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়।
২০০৮ সালে ঘোষিত কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০-এর মাধ্যমে তিনি প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। তাঁর প্রণীত অর্থনৈতিক মডেল আজও কাতারের উন্নয়ন নীতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।