আমার দেশ-এ ৪ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত এক কলামে মহিউদ্দিন আহমেদ জুলাই সনদের পূর্ণ ও স্বচ্ছ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, জুলাই অভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটালেও ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত কাঠামোর অনেক অংশ অক্ষত রয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির গণভোটে জনগণ ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে রায় দিয়েছিল; তাই সনদকে শুধু ক্ষমতাসীন দলের ইশতেহারের ভিত্তিতে খণ্ডিতভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।
কলামটিতে নির্বাহী ক্ষমতার সীমা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনকে গণভোটের কেন্দ্রীয় অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। লেখক ৯ জুলাই ২০২৬-এর আপিল বিভাগের রায়ের কথাও তুলে ধরেন, যেখানে পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ নিয়ে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও সাংবিধানিক গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হয়। তাঁর মতে, রায়টি গণভোটের সব প্রস্তাবকে সরাসরি বাধ্যতামূলক বলেনি, তবে জনমতের সাংবিধানিক গুরুত্ব সামনে এনেছে।
লেখক সরকারের কাছে প্রতিটি প্রস্তাবের অবস্থান, প্রয়োজনীয় আইন বা সংশোধন এবং সময়সীমাসহ আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন তালিকা ও প্রকাশ্য সংস্কার ড্যাশবোর্ড চালুর দাবি জানান। সাংবিধানিক খসড়া জনসমক্ষে প্রকাশ, লিখিত মতামতের সুযোগ এবং মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলো পৃথকভাবে আলোচনার কথাও বলেন তিনি। তাঁর মতে, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী উভয় পক্ষের দায়িত্ব থাকলেও আইন প্রণয়নের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সরকারের দায় বেশি।