বাংলাদেশে প্যাকেটজাত খাদ্যের সম্মুখভাগে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা-২০২৬ অনুযায়ী এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। ঢাকায় প্রজ্ঞা ও গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবিটরের আয়োজিত এক কর্মশালায় জানানো হয়, প্রবিধানটির খসড়া চলতি মাসেই চূড়ান্ত করে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পর্যালোচনা শেষে আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রজ্ঞাপন জারি করবে এবং ছয় মাস পর এটি কার্যকর হবে। তখন প্যাকেটজাত খাদ্যের গায়ে তামাকজাত পণ্যের মতো স্বাস্থ্য সতর্কতা লেখা বাধ্যতামূলক হবে।
কর্মশালায় বক্তারা জানান, ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোক্তারা সহজে কোনো খাদ্যে চিনি, লবণ ও চর্বির মাত্রা বুঝতে পারবেন। বর্তমানে ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাবার খান, কিন্তু পেছনের জটিল পুষ্টি তথ্য বুঝতে পারেন না। বিশ্বের ৪৪টি দেশে এফওপিএল চালু হয়েছে, যা ভোক্তা সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
কর্মশালায় আরও জানানো হয়, দেশে অতি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে এবং এর ফলে ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী।