বাণিজ্য, সন্ত্রাসবাদ, পাকিস্তান ও অভিবাসন ইস্যুতে উত্তেজনা বাড়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে তুলে ধরছে ভারত। নিউইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগের প্রতি ওয়াশিংটন যথেষ্ট সংবেদনশীলতা দেখাচ্ছে না এবং তাদের আত্মকেন্দ্রিক বাণিজ্যনীতি বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বুধবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আলোচনা ফলপ্রসূ বলেছেন, তবে তার ভাষা ছিল সংযত ও আনুষ্ঠানিক।
যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও বাণিজ্য এখন প্রধান বিরোধের ক্ষেত্র। ২০২৫ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্য ছিল ১৪৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার এবং ভারতের উদ্বৃত্ত ছিল ৫৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। আলোচনা চললেও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। কৃষি খাত বিশেষভাবে স্পর্শকাতর; জয়শঙ্কর মাথাপিছু আয়, উৎপাদনব্যবস্থা ও সামাজিক কাঠামোর পার্থক্যের কথা তুলে ধরে বলেন, একটি মোটামুটি বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে।
গত মে মাসে ভারতশাসিত কাশ্মীরে হামলায় ২৬ বেসামরিক নিহত হওয়ার পর ভারত-পাকিস্তান চার দিনের সংঘাত হয়। ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত দাবিতে ভারত অসন্তোষ জানিয়েছে এবং কাশ্মীরকে দ্বিপক্ষীয় বিষয় বলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ, সম্ভাব্য মার্কিন শুল্ক এবং এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে বাধা বাড়া সম্পর্কের চাপ আরও বাড়াচ্ছে।