সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরীসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যা ও পাহাড়ধসে এখন পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার পরিবার পানিবন্দি এবং ৪৪ হাজার মানুষ ১,১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে।
জামালপুরে ২০৯ মিলিমিটারসহ বিভিন্ন স্থানে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, আর ভারতের মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত বন্যার তীব্রতা বাড়িয়েছে। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের প্রায় ১০ লাখ ২২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন ও বহু এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে আসায় পরিস্থিতির ধীর উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।