আমার দেশে ২১ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রবন্ধে শাহীদ কামরুল জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, জাতীয়তাবাদ কখনো গঠনমূলক শক্তি হলেও কখনো তা ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে। প্রবন্ধে প্লেটো, এরিস্টটল, কান্ট, হেগেল, মার্কস, আর্নেস্ট রেনান, বেনেডিক্ট অ্যান্ডারসন, মিশেল ফুকো ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবনা আলোচিত হয়েছে।
লেখক জাতীয়তাবাদকে সামষ্টিক পরিচয়ের উৎস হিসেবে দেখলেও আবেগনির্ভর, ধর্মীয় ও বর্জনমূলক রূপের ঝুঁকির কথা বলেছেন। পাকিস্তান আমলে পূর্ববাংলায় উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনা, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, ভারতের হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদ এবং বাংলাদেশের পরিচয়নির্ভর বিভাজনের প্রসঙ্গ এসেছে। বহুজাতিক রাষ্ট্র নিয়ে জন স্টুয়ার্ট মিলের সংশয় ও লর্ড অ্যাকটনের সহাবস্থানের পক্ষে অবস্থানও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রবন্ধে অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদকে দেশীয় শিল্প, কৃষি ও শ্রমশক্তি সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় নীতির ধারণা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মারক্যান্টিলিজম ও ফ্রিডরিশ লিস্টের সুরক্ষাবাদী যুক্তির পাশাপাশি অ্যাডাম স্মিথের অদক্ষতা ও দুর্নীতির আশঙ্কাও উল্লেখ করা হয়েছে। লেখকের মতে, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও জনগণের সার্বভৌমত্ব ছাড়া এই নীতি সীমিত গোষ্ঠীর ক্ষমতা ও শোষণের হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে।