বাংলাদেশ সরকার আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, দেশের তীব্র বেকারত্ব সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে। প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ তরুণ চাকরির বাজারে প্রবেশ করলেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না থাকায় অনেকেই বেকার বা আংশিক বেকার অবস্থায় রয়েছেন। সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) জানিয়েছে, প্রায় ৮০ লাখ কর্মসংস্থান দেশে এবং ১৫ লাখ বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে তৈরি করা হবে। সেবা, শিল্প ও কৃষি খাতকে এ পরিকল্পনার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।
সরকার বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদন বাড়িয়ে কর্মসংস্থান তৈরির কৌশল নিয়েছে। এজন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল, কর কাঠামো সংস্কার ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও সুবিধা ইতোমধ্যে গৃহীত হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তারা সতর্ক করেছেন যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট ও আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতা বিনিয়োগে বড় বাধা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টেকসই কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করা, সামষ্টিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শ্রমবাজারের নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ করা জরুরি। তারা আরও বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে জিডিপির ২৩–২৪ শতাংশে স্থবির থাকায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সীমিত হচ্ছে।