সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুশিয়ারা নদীর তলদেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও বিষাক্ত ভারী ধাতুর উচ্চমাত্রার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ৯ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের সাম্প্রতিক গবেষণায় নদীর ৯টি জনবহুল পয়েন্ট থেকে ৩০ সেন্টিমিটার গভীর পর্যন্ত পলির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রতি কেজি পলিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩০০টি এবং গড়ে ২ হাজার ৮০০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
নমুনায় নদীর তলদেশের ১০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার গভীরতাতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। পাশাপাশি ক্রোমিয়াম, নিকেল, কপার, সিসা ও ক্যাডমিয়ামের বিষক্রিয়া উচ্চমাত্রায় ধরা পড়েছে। পরিবেশগত ঝুঁকি সূচকে পলির দূষণ ‘অত্যন্ত উচ্চ’ বা ক্লাস ভি পর্যায়ে রয়েছে। মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করায় ভারী ধাতু মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলে ঢুকে ক্যানসারসহ জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নদীতীরবর্তী এলাকা এবং খাল-নালা থেকে বর্জ্য কুশিয়ারায় পড়ছে বলে জানানো হয়। দীর্ঘদিনের মৎস্যজীবী জাবেদ মাছ কমে যাওয়া ও পানির মান খারাপ হওয়ার কথা বলেছেন। মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান বিজ্ঞানভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দূষণমুক্ত প্রবাহ নিশ্চিতের আহ্বান জানান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী আমির হোসাইন খান স্রোত কমে যাওয়ায় নদীর গভীরতা ও পরিবহনক্ষমতা কমার কথা বলে বর্জ্য অপসারণ এবং নদীতে আবর্জনা ফেলা বন্ধের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।