আমার দেশের এক মতামতধর্মী লেখায় জুলাইকে কেবল ক্যালেন্ডারের একটি মাস নয়, বরং জাতির বিবেক, চলমান প্রশ্ন ও অসমাপ্ত দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। লেখাটি ১৭ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত হয়। এতে জুলাইয়ের আন্দোলনকে রাষ্ট্রের সামনে গণমানুষের সম্মিলিত জাগরণের প্রকাশ বলা হয়েছে এবং আহত-নিহতদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করা হয়েছে। শহীদ আবু সাঈদের মতো তরুণদের আত্মত্যাগ রাষ্ট্রের শক্তি মানুষের ওপর নাকি মানুষের জন্য—এই প্রশ্ন সামনে এনেছে বলে লেখক উল্লেখ করেন।
লেখাটিতে বলা হয়, ক্ষমতা সাধারণত প্রশ্ন ও ভিন্নমতকে সহজে গ্রহণ করে না এবং প্রতিবাদীদের উচ্ছৃঙ্খল, ষড়যন্ত্রী বা রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা ইতিহাসে দেখা গেছে। বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে উত্তেজনা, সহিংসতা ও বিভাজনের খবরের প্রেক্ষাপটে লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, দেশ সত্যিই জুলাই থেকে শিক্ষা নিয়েছে কি না। বিশ্ববিদ্যালয়ে মতের বদলে পরিচয় বিচার হলে তা একটি প্রতিষ্ঠানের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে বলেও মত দেওয়া হয়েছে।
শুধু স্মরণসভা, শোভাযাত্রা বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে জুলাইয়ের চেতনা সীমিত না রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিলম্ব, সনদ প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে দেরি এবং শহীদ পরিবারগুলোর প্রত্যাশা দীর্ঘায়িত করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে লেখাটি বলেছে। আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় বাস্তব পদক্ষেপ, ন্যায়বিচার, অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রচর্চায় সত্যকে ক্ষমতার ঊর্ধ্বে রাখা জরুরি বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।