নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জের জাভোদোভস্কি দ্বীপে ২০১১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রজননক্ষম চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের সংখ্যা প্রায় ৬৩ শতাংশ কমেছে। গবেষকদের হিসাবে, এ সময়ে ৫ লাখের বেশি প্রজননক্ষম পেঙ্গুইন হারিয়েছে। ২০১১ সালে প্রায় ১০ লাখ ৯০ হাজার পেঙ্গুইন থাকলেও ২০২৫ সালে সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৪ লাখ ২ হাজারে। ফলে দ্বীপটি বিশ্বের বৃহত্তম পেঙ্গুইন কলোনির মর্যাদা হারিয়েছে; এ মর্যাদা এখন রস সাগরের কেপ অ্যাডারের।
ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের গবেষকেরা ড্রোন জরিপ, আকাশ থেকে তোলা ছবি, স্যাটেলাইট তথ্য ও পেঙ্গুইনের চলাচল পর্যবেক্ষণ করে পরিবর্তনটি শনাক্ত করেছেন। কারেন্ট বায়োলজিতে প্রকাশিত গবেষণায় জলবায়ু পরিবর্তনকে এই পতনের সম্ভাব্য প্রধান কারণ বলা হয়েছে। দক্ষিণ মহাসাগরের পানি উষ্ণ হওয়ায় চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের প্রধান খাদ্য অ্যান্টার্কটিক ক্রিল দক্ষিণ দিকে সরে যাচ্ছে, যেখানে পৌঁছানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।
একই দ্বীপে ম্যাকারনি পেঙ্গুইনের সংখ্যা ২০১১ থেকে ২০১৬ সালে প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে, পরে তা মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। গবেষকদের মতে, তাদের বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তিত খাদ্য সরবরাহের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করছে। প্রতিযোগিতা, মানুষের কর্মকাণ্ড ও ২০১৬ সালের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতকে দীর্ঘমেয়াদি পতনের প্রধান কারণ পাওয়া যায়নি। গবেষকেরা আশঙ্কা করছেন, চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনকে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিকভাবে বিপন্ন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করতে হতে পারে।