ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ মালাক্কা প্রণালি আবারও বৈশ্বিক আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় সামরিক উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য বিস্তৃত অনুমতি চাওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পর এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবটি এখনো বিবেচনাধীন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
মালাক্কা প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাণিজ্য পরিচালিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের ২৯ শতাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, ইলেকট্রনিকস ও যানবাহন। জলদস্যুতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগও এই অঞ্চলের স্থায়ী ঝুঁকি। বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও দীর্ঘমেয়াদে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি চীন যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিকে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে।
‘মালাক্কা দ্বিধা’ ধারণাটি চীনের এই নৌপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বোঝায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চীন নির্ভরতা কমানোর চেয়ে দক্ষিণ চীন সাগর ও আশপাশের সামুদ্রিক রুটে প্রভাব বাড়ানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।