পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে তরমুজের ফলন ভালো হলেও শতাধিক কৃষক বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। পাইকারের অভাব, বাজারে চাহিদা হ্রাস এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চাষিদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। অনেক কৃষক দূর-দূরান্ত থেকে জমি লিজ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ করলেও বাজার অনুকূলে না থাকায় বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
চরচান্দুপাড়া গ্রামের ফেরদৌস তালুকদার ৬৪ বিঘা জমিতে প্রায় ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে তরমুজ চাষ করে প্রতি মণ ২২০০ টাকার পরিবর্তে ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ধানখালী এলাকার অলিউল্লাহ ও মো. রিয়াজসহ আরও অনেকে একই সমস্যায় পড়েছেন। ঈদের আগে বৃষ্টিতে ক্ষেত কাদায় পরিণত হওয়ায় তরমুজের মান নষ্ট হয়েছে এবং ফাল্গুন-চৈত্রে তাপমাত্রা কম থাকায় চাহিদাও কমে গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, এ বছর ৪৪৪৭ হেক্টর জমিতে প্রায় তিন হাজার কৃষক তরমুজ চাষ করেছেন, যার বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা ৪০৪ কোটি টাকা। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, বাজার স্থিতিশীল না হলে প্রায় অর্ধেক চাষি লোকসানে পড়বেন।