বাংলাদেশে প্লাস্টিক দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতি বছর প্রায় ৩ দশমিক ৯ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য নদী, বনভূমি ও কৃষিজমিতে জমে পরিবেশকে বিপর্যস্ত করছে। এর মাত্র ১৯ শতাংশ পুনর্ব্যবহার করা হয়, বাকিটা ল্যান্ডফিল ও নদীতে গিয়ে বিষাক্ত রাসায়নিক ছড়ায়। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের সহজলভ্যতা এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। পোড়ানো প্লাস্টিকের ধোঁয়া ঢাকাকে বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহরে পরিণত করেছে, আর মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে।
চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে, দরিদ্র জনগোষ্ঠী জীবিকার তাগিদে প্লাস্টিক পুড়িয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। দূষণজনিত রোগে স্বাস্থ্যব্যয় দ্রুত বাড়ছে এবং জিডিপির প্রায় তিন শতাংশ ব্যয় হচ্ছে। লেখক সরকার, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বর্জ্য পৃথকীকরণ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধকরণ ও পুনর্ব্যবহার বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনটি জিরো-ওয়েস্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা, পুনর্ব্যবহার অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং পাট ও বাঁশের মতো প্রাকৃতিক বিকল্প পণ্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। শক্তিশালী রাজনৈতিক অঙ্গীকার, জনসচেতনতা ও উৎপাদকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা হলে বাংলাদেশ টেকসই সার্কুলার অর্থনীতির পথে এগিয়ে যেতে পারবে।