চীনের আইনস্টাইন প্রোব মহাকাশ টেলিস্কোপ গত মার্চে পৃথিবী থেকে প্রায় ৫০ কোটি আলোকবর্ষ দূরের একটি নক্ষত্র বিস্ফোরণের এক্স-রে ঝলক শনাক্ত করে। এক ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণকেন্দ্র ওই উৎসের দিকে নজর দেয়। বিজ্ঞানীরা ঘটনাটিকে একটি সুপারনোভা হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং এর প্রথম আলোর ক্ষণস্থায়ী ‘শক ব্রেকআউট’ পর্যবেক্ষণ করেন। পর্যবেক্ষণ ফল নিয়ে দুটি গবেষণাপত্র ১৪ জুলাই The Astrophysical Journal Letters-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকদের মতে, গত ২০ বছরে নক্ষত্র বিস্ফোরণের শক ওয়েভ সরাসরি দেখার এটি মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা। সুপারনোভাটি ‘টাইপ আইসি ব্রড-লাইনড’ শ্রেণির হলেও এর শক ব্রেকআউট এ ধরনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দেখা সবচেয়ে ম্লান ছিল। সাধারণত এ ধরনের বিস্ফোরণের সঙ্গে গামা-রে বিস্ফোরণের সম্পর্ক দেখা গেলেও এখানে তার প্রমাণ মেলেনি। সহলেখক ব্রেন্ডান ও’কনর বলেন, সংবেদনশীল যন্ত্র দিয়েও গামা-রে বিস্ফোরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
চিলির ভেরা সি. রুবিন অবজারভেটরি, কিট পিকের মায়াল টেলিস্কোপের যন্ত্র, জেমিনি নর্থ ও জেমিনি সাউথসহ বিভিন্ন কেন্দ্র অনুসরণমূলক তথ্য সংগ্রহ করে। মৃত নক্ষত্রটি সূর্যের প্রায় ২০ গুণ ভরের উলফ-রেয়েট নক্ষত্র ছিল এবং আগে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম ছুড়ে চারপাশে পদার্থের স্তর তৈরি করেছিল। বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতে আরও শক ব্রেকআউট দেখে একই ধরনের নক্ষত্রের শেষ পর্যায় বোঝার আশা করছেন।