বিশ্বব্যাংক ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে শ্রীলঙ্কাকে আবার উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের স্বাধীনতা-পরবর্তী সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট থেকে দেশটি ২০২৫ সালে প্রায় ৫ শতাংশ প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মাথাপিছু ৪,৬৭০ মার্কিন ডলার মোট জাতীয় আয় অর্জনের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ায়। এই অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
নিবন্ধ অনুযায়ী, ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ কর্মসূচি, কর বৃদ্ধি, বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ, কঠোর মুদ্রানীতি ও কাঠামোগত সংস্কার পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতা ও আন্তর্জাতিক বন্ডধারীদের সঙ্গে ঋণ পুনর্গঠন তাৎক্ষণিক পরিশোধের চাপ কমায়। পর্যটন ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমন আইন, সম্পদ বিবরণী, সরকারি ক্রয় সংস্কার ও ডিজিটাল সেবাও ভূমিকা রাখে।
তবে শ্রীলঙ্কার উচ্চ সরকারি ঋণ, বাড়তি করের বোঝা এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ রয়ে গেছে। বাংলাদেশের জন্য নিবন্ধটি ব্যাংক খাত সংস্কার, বিচক্ষণ ঋণ ব্যবস্থাপনা, করদাতা বৃদ্ধি, স্বাধীন দুদক, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং পোশাকশিল্পের বাইরে অর্থনীতির বহুমুখীকরণের পরামর্শ দিয়েছে। এতে সুশাসন, আর্থিক শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিক সংস্কারকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের শর্ত বলা হয়েছে।