ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের লংকারচর নীচুপাড়া এলাকায় মধুমতি নদীর ধারাবাহিক ভাঙনে নদীপাড়ের বাসিন্দারা নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। নদীগর্ভে ইতোমধ্যে প্রায় দুই একর বসতভিটা ও ফসলি জমি বিলীন হয়েছে এবং অবশিষ্ট প্রায় এক একর জমিও ঝুঁকিতে আছে। চলতি বছর এলাকাটিতে নতুন করে তুলনামূলক হালকা ভাঙন শুরু হলেও ঘরবাড়ি ও শেষ সম্বল হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগী আরতী গোয়ালী বলেন, বিয়ের পর থেকে প্রায় ৩০ বছর ধরে নদী তাঁদের বাড়িঘর ও জমি গ্রাস করছে; পরে তাঁরা রাস্তার পাশে সামান্য জমি কিনে ঘর করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে বর্ষায় ভাঙন তীব্র হয়। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, আরতী গোয়ালীসহ প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পরিবারের বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে; ধান, পাট, মরিচ ও ঘাসের জমিও হারিয়েছে অনেকে।
বাসিন্দারা দ্রুত বাঁধ বা স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন নবাব বলেন, নিয়ম মেনে বালু উত্তোলন হলে এমন ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতো না। বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান জানান, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গার অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীশাসনের কাজ করেছে এবং বোয়ালমারীতে ভাঙন দেখা দিলে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।