২০২৬ সালের ১৭ জুন প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘ ইতিহাসকে কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন অধিকাংশ সংবাদপত্র বন্ধের ঘটনাকে স্মরণ করে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলেও একই প্রবণতা নতুন রূপে ফিরে আসে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপনের চাপের মাধ্যমে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর ভয়াবহ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, ফলে গণমাধ্যম জনগণের কণ্ঠস্বর হারিয়ে ক্ষমতার প্রতিধ্বনিতে পরিণত হয়।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও সত্য দমনের সংস্কৃতির ঐতিহাসিক প্রত্যাখ্যান। মূলধারার গণমাধ্যম তখন জনগণের ক্ষোভ ও বৈষম্যের বাস্তবতা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়, বিপরীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাগরিক সাংবাদিকতা সেন্সরশিপ ভেঙে সত্য প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও সে সময় রাষ্ট্রীয় সহিংসতার চিত্র প্রকাশ করে।
লেখক গণমাধ্যম সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক ও করপোরেট প্রভাবমুক্ত সম্পাদকীয় স্বাধীনতা, কালো আইন বাতিল এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই গণতন্ত্র ও সাংবাদিকতার ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।