যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বসবাসরত খালিস্তান আন্দোলনের নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ভারতীয় নাগরিক নিখিল গুপ্ত ম্যানহাটানের একটি ফেডারেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিয়ন্ত্রিত বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং’ (র)-এর এক কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি এই পরিকল্পনা করেছিলেন। এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ভারতের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। আগামী ২৯ মে মামলার রায় ঘোষণা হবে, যেখানে গুপ্তর ১৯ থেকে ২৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ ডলার জরিমানা হতে পারে।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এটি কোনো স্বতঃস্ফূর্ত সহিংসতা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত গুপ্তহত্যার প্রচেষ্টা, যাতে ভারতীয় সরকারি কর্মচারী বিকাশ যাদবের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। নয়াদিল্লি এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গণমাধ্যমের তথ্যে বলা হয়েছে, কিছু ‘বিপথগামী কর্মী’ অনুমোদন ছাড়া কাজ করেছিলেন, যদিও তদন্তের ফল প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে নতুন করে চাপে ফেলেছে এবং বিদেশে ভারতের গোয়েন্দা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
গুপ্তর স্বীকারোক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র বিকাশ যাদবের প্রত্যর্পণ দাবি করতে পারে, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়নি।