চীনের ইয়াংসি নদী, যা দীর্ঘদিন দূষণ ও পরিবেশগত বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল, মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞার পর পুনরুজ্জীবনের লক্ষণ দেখাচ্ছে। সরকার ‘বিবর্তনীয় তত্ত্ব’ ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে এবং নদী নির্ভর জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। বৃহস্পতিবার সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞার পর নদীতে মাছের জৈববস্তু দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে এবং বেশ কয়েকটি বিপন্ন প্রজাতি ফিরে এসেছে।
ফ্রান্সের তুলুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেবাস্তিয়ান ব্রোস এই পদক্ষেপকে গত ২০ বছরের মধ্যে মিঠাপানি সংরক্ষণের সবচেয়ে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার নেতৃত্বাধীন দলটি ৪০০ মিলিয়ন মানুষের ওপর নির্ভরশীল এই বিশাল জলপথের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মাছ ধরা বন্ধের ফলে শুধু জীববৈচিত্র্যই নয়, নদীর পানির মানও উন্নত হয়েছে।
চীনা সরকার প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে দুই লাখ জেলেকে ক্ষতিপূরণ ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়েছে। এর ফলে এক লাখ জেলে মাছ ধরা বন্ধ করেছে। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে নদীর মোট জৈববস্তু দ্বিগুণ হয়েছে এবং জীববৈচিত্র্য বেড়েছে ১৩ শতাংশ।