সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘সিলেকটিভ ইনক্লুশন’ ও একপেশে ইতিহাসচর্চার সমালোচনা করেছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ানকে কেন্দ্র করে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও চলচ্চিত্র গড়ে উঠেছে, ফলে বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনা উপেক্ষিত থেকে গেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন জেনারেল ওসমানীর অনুপস্থিতি, ভাসানীর ভূমিকা বা রক্ষীবাহিনীর নির্যাতনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হয়নি।
ফারুকীর মতে, গুম, রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিপীড়নের মতো বিষয়েও দেশে শক্তিশালী ফিকশন তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, সমাজে এমন সাংস্কৃতিক বয়ান তৈরি হয়েছে যেখানে কিছু বিষয়কে প্রগতিশীল বা গ্রহণযোগ্য মনে করা হয় না, ফলে শিল্পীরা নানা তকমা ও অর্থায়নের বাধার মুখে পড়েন। তিনি দাবি করেন, ‘হাই কালচার’ ও ‘লো কালচার’-এর বিভাজন তৈরি করে একটি দলকে প্রগতিশীল ও অন্যদের পশ্চাৎপদ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা ফ্যাসিবাদকে টিকিয়ে রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন আসলে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সূচনা এবং ভবিষ্যতে নতুন বয়ান ও দৃষ্টিভঙ্গির চর্চা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন। দায়িত্ব ছাড়ার আগে তিনি উত্তরসূরির জন্য একটি বিস্তারিত ‘নোট টু সাকসেসর’ রেখে গেছেন।