স্থবির অর্থনীতি চাঙা করতে গত মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত চালুর ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫টি প্যাকেজে গ্রাহকেরা ১৪ হাজার ৫২০ কোটি টাকা ঋণ চেয়ে আবেদন করেছেন। ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ১১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা এবং ২ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, আগের অনিয়মিত ঋণ বিতরণের পর খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় এখন যাচাই-বাছাই জোরদার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কি না, ঋণ পেলে চালু হতে পারবে কি না এবং ঋণ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে কি না—এসব দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের অনাপত্তিপত্রও প্রয়োজন হচ্ছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ঋণ অনুমোদনে এখন তিন থেকে চার মাস লাগছে।
ব্যবসায়ী নেতারা উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের উচ্চ সুদ, জ্বালানি সংকট ও কম চাহিদাকে বিনিয়োগের বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের অভিযোগ, কিছু ব্যাংক আবেদন নিতে চাইছে না বা উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে। বিতরণ ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও সাবেক ব্যাংকারদের সঙ্গে বৈঠক করেছে; ব্যবসায়ীরা প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি করেছেন, আর অন্যরা সক্ষম ঋণগ্রহীতাদের সতর্ক যাচাইয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন।