২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতের ১৭ বছর পরও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের সাতক্ষীরার মানুষ সেই ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষত থেকে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও মাছের ঘের ভেসে গিয়ে হাজারো পরিবার নিঃস্ব হয়েছিল। শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু ও ২ লাখ ৪৩ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছিলেন। আজও অনেক পরিবার সরকারি জমিতে বেড়িবাঁধের পাশে বসবাস করছে, যেখানে খাবার পানির সংকট ও কর্মসংস্থানের অভাব প্রকট।
এরপর আম্পান, বুলবুল ও ২০২৪ সালের রিমালসহ একের পর এক ঘূর্ণিঝড় উপকূলের ক্ষত আরও গভীর করেছে। মে মাস এলেই উপকূলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নে ৩০–৩৫ শতাংশ মানুষ ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন, প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার নদীর চরে বসবাস করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার রাস্তা এখনও পুরোপুরি সংস্কার হয়নি।
গাবুরাকে মডেল ইউনিয়ন ঘোষণা করে টেকসই বাঁধ নির্মাণে প্রায় ১ হাজার ২০ কোটি টাকার প্রকল্প চলছে এবং বাঁধসংলগ্ন এলাকায় বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবুও উপকূলবাসীর প্রশ্ন রয়ে গেছে—আর কত দুর্যোগের পর নিরাপদ হবে তাদের জীবন।