চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের জাহাজভাঙা শিল্প বহুমুখী সংকটের মুখে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ১৪ আগস্ট এমটি রাশি জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকে কাজের সময় কয়েকজন শ্রমিক গ্যাসে আক্রান্ত হন; পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা গেলে মোট মৃত্যু ১০ জনে দাঁড়ায়। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় ২২ আগস্ট ২০২৬।
ঘটনার পর ট্যাংকে প্রবেশের আগে গ্যাস পরীক্ষা, গ্যাসমুক্তকরণ, পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন ও জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি উঠেছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ট্যাংকের তলানিতে জমা পানিতে দ্রবীভূত হাইড্রোজেন সালফাইড পানি নিষ্কাশনের সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা মানের ঘাটতি আন্তর্জাতিক জাহাজমালিকদের বাংলাদেশে পুরোনো জাহাজ পাঠাতে নিরুৎসাহিত করতে পারে।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা খাত বন্ধের পরিবর্তে নিরাপত্তা উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা আধুনিক গ্যাস ডিটেকটর, মানসম্মত সুরক্ষা সরঞ্জাম, ভেন্টিলেশন, উদ্ধারব্যবস্থা, কঠোর নিরাপত্তা অডিট ও প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন। প্রমাণিত গাফিলতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। জাহাজভাঙা খাত রড, স্টিল, রি-রোলিং ও নির্মাণ খাতে কাঁচামাল সরবরাহের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, রাজস্ব এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।