২১ মে চীন ও পাকিস্তান তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। ১৯৫০ সালে পাকিস্তান প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বেইজিংয়ের কমিউনিস্ট সরকারকে স্বীকৃতি দেয়। ইসলামাবাদের সিনেটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সফররত চীনা সংসদীয় প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে দুই দেশের ‘একীভূত দৃষ্টিভঙ্গি’ তুলে ধরেন। সিনেটে সর্বসম্মতিক্রমে চীন-পাকিস্তান বন্ধুত্ব পুনর্ব্যক্তের প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ২৩ মে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিং যাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্পর্ক আদর্শিক নয়, বরং কৌশলগত প্রয়োজনের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান বিতর্কিত শাক্সগাম উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে হস্তান্তর করে, যা পারস্পরিক আস্থার সূচনা করে। পরবর্তীতে পারমাণবিক ও সামরিক সহযোগিতা বাড়ে, বর্তমানে পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ অস্ত্র আসে চীন থেকে। ৬২ বিলিয়ন ডলারের সিপিইসি প্রকল্প অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করলেও ঋণ ও নিরাপত্তা সংকট বাড়িয়েছে।
২০২৬ সালের মে মাসে পাকিস্তান চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ‘পান্ডা বন্ড’ ইস্যু করে, যা দুই দেশের আর্থিক নির্ভরতা ও কৌশলগত অঙ্গীকারের প্রতীক।