সাংবাদিক তাসনিম খলিল প্রশ্ন তুলেছেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার কি গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রেফারেন্ডামে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে পারে? ড. এম এল রায়হানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই প্রশ্নটি গণতন্ত্র, রাষ্ট্রনৈতিক বৈধতা এবং রূপান্তর প্রক্রিয়ার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসানের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একাধিক সংস্কার কমিশন গঠন করেন। অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার মাধ্যমে সংস্কার প্রস্তাবগুলো গণভোটে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।
লেখকের মতে, সরকার যখন সর্বদলীয় ঐকমত্যে গৃহীত সংস্কার প্রস্তাব জনগণের সামনে তুলে ধরে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানায়, তা সাংবিধানিক ও নৈতিকভাবে যুক্তিসঙ্গত। ১৯৭৮ ও ১৯৯১–৯২ সালের রেফারেন্ডামেও সরকার তাদের অবস্থানের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা, চিলি, তিউনিসিয়া ও নেপালের উদাহরণ দেখিয়ে লেখক বলেন, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সময় সরকার নিরপেক্ষ দর্শক নয়, বরং সংস্কারের পক্ষেই অবস্থান নেয়।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার কোনো জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ নয়; এটি গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট রক্ষা ও নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করার দায়িত্বশীল উদ্যোগ।