হঠাৎ বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা পানিতে হাওরাঞ্চলের বোরো ধান কাটার পরও স্বস্তি পাচ্ছেন না কৃষকরা। টানা বৃষ্টি ও রোদ না থাকায় ধান শুকাতে না পারায় তা গুদামে রাখার উপযোগী নয়। ধান শুকানোর মেশিনের সংকট পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। ফলে অনেক ধান বিক্রি-অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে কিছু ড্রাই মেশিন পাঠালেও তা পর্যাপ্ত নয়।
সরকার মণপ্রতি ১,৪৪০ টাকায় ধান কেনার ঘোষণা দিলেও অধিকাংশ কৃষক আর্দ্রতার শর্ত পূরণ করতে না পারায় গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। খোলাবাজারে ধানের দাম নেমে এসেছে ৪০০–৬০০ টাকায়, যা উৎপাদন খরচেরও নিচে। এতে কৃষকের লোকসান বাড়ছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা সুযোগ নিচ্ছে। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম পরামর্শ দিয়েছেন, সরকার চাইলে ভেজা ধান কিনে শুকানোর ব্যবস্থা করতে পারে।
সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রশাসন ক্ষতির তালিকা তৈরি ও সহায়তার উদ্যোগ নিচ্ছে, তবে কৃষকরা কবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন তা অনিশ্চিত।