২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধ ছয় মাস পরও পশ্চিম এশিয়াকে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বদলাতে পারেনি বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস, প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং ইসরাইলের নেতৃত্বে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়া। কিন্তু ইরান সরকার ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো টিকে আছে এবং দেশটি সামরিক ও কৌশলগত পাল্টা চাপ তৈরির সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দ্রুত ফলের অভিযান হিসেবে বিবেচিত যুদ্ধটি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টিতে ইরানের ভৌগোলিক সক্ষমতা তুলে ধরেছে। তেল, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি অবকাঠামো ও সমুদ্রপথ ঝুঁকিতে পড়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোও নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্বিবেচনা করছে।
ইরান ক্ষতিহীন নয়; বহু মানুষ নিহত হয়েছেন, সামরিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং অর্থনীতিতে বড় চাপ পড়েছে। তবু যুদ্ধটি লেবানন, ফিলিস্তিন ও ইয়েমেনসহ বিভিন্ন ফ্রন্টের প্রতিরোধ জোটকে পুরোপুরি ভাঙতে পারেনি। ইরান ভবিষ্যৎ হামলার আগে প্রতিপক্ষকে নতুন হিসাব করতে বাধ্য করতে ব্যয় চাপানোর কৌশলকে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিকল্প জ্বালানি পরিবহনপথ গড়তেও উপসাগরীয় দেশগুলোর বিপুল ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।