ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ে খাদ্য ও পানির সংকটে বন্য হাতি জনবসতিতে নেমে আসায় হাতি-মানুষের সংঘাত বাড়ছে। বন বিভাগের হিসাবে, ২০১৪ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত গারো পাহাড় ও আশপাশের এলাকায় হাতির আক্রমণে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বৈদ্যুতিক ফাঁদ, বিষটোপ ও প্রতিশোধমূলক হামলায় ৩৫টি বন্য হাতি মারা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন উজাড়, পাহাড় কেটে বসতি ও চাষাবাদ, অবৈধ দখল এবং বাণিজ্যিক গাছ নিধনে হাতির আবাসস্থল সংকুচিত হয়েছে। অনিয়মিত বৃষ্টি ও দীর্ঘ খরায় নতুন গাছপালা জন্মাচ্ছে না, ঝিরি ও ছড়া শুকিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বলেন, হাতির দল ফসল নষ্ট করছে এবং ক্ষতিপূরণ যথাযথভাবে পাওয়া যায় না।
সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শেরপুরে ৩০ জন মানুষ ও ৩০টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। বালিজুরী রেঞ্জের ৮ হাজার ৩৩০ একর বনভূমিতে প্রায় ১২০টি হাতি রয়েছে। বন বিভাগ খাদ্য সংকট কমাতে ১১৫ হেক্টর এলাকায় খাদ্যোপযোগী গাছ লাগাচ্ছে এবং বিভিন্ন বনাঞ্চলে কৃত্রিম জলাধার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।