আর্জেন্টিনার সাবেক ফার্স্ট লেডি ইভা পেরন জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৫২ সালের ২৬ জুলাই ৩৩ বছর বয়সে মারা যান। তার সংরক্ষিত দেহ পরে ১৬ বছরের দীর্ঘ যাত্রার কেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৯৫৫ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে তার স্বামী প্রেসিডেন্ট হুয়ান পেরন ক্ষমতাচ্যুত হলে নতুন সরকার বুয়েনস আয়ার্সের কেন্দ্রস্থলের পরিকল্পিত স্মৃতিস্তম্ভ থেকে দেহটি সরিয়ে দেয়।
স্প্যানিশ অ্যানাটমিস্ট ডক্টর পেদ্রো আরা প্যারাফিন ও গ্লিসারিন ইনজেকশনের মাধ্যমে দেহ সংরক্ষণ করেন। কংগ্রেস ভবনে ১৪ দিন রাখা কফিন দেখতে ২০ লাখের বেশি মানুষ এসেছিলেন। পেরনপন্থিদের প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে—এই আশঙ্কায় দেহটি কখনও সামরিক গোয়েন্দা কেন্দ্রে, কখনও শহরের বিভিন্ন স্থানে রাখা হয়। ১৯৫৭ সালে এটি ইতালির মিলানে মারিয়া মাজ্জি দে মাজিসত্রিস ছদ্মনামে দাফন করা হয়।
১৯৭১ সালে একটি নতুন সরকার হুয়ান পেরনের কাছে মাদ্রিদে দেহ ফিরিয়ে দিতে সম্মত হয়। হুয়ান পেরনের ১৯৭৪ সালের মৃত্যুর পর দেহটি বুয়েনস আয়ার্সে ফেরানো ও পুনরুদ্ধার করা হয়। ১৯৭৬ সালের অক্টোবরে ইভা পেরনকে পাঁচ মিটার গভীরে অত্যন্ত সুরক্ষিত ক্রিপ্টে সমাহিত করা হয়, যাতে তার দেহ আর চুরি না হয়।